শুষ্ক ত্বক পরিচর্যার উপায় ও টিপস | Dry Skin Tips

by

মুখে হাত দিলেই রুক্ষ-শুষ্ক খসখসে ভাব অনুভব হচ্ছে? দিনে দিনে কি হারিয়ে যাচ্ছে ত্বকের সেই কোমল মোলায়েম ভাব বা উজ্জ্বলতা? তাহলে কিন্তু ভীষণ সাবধান। কোনও না কোনও কারণে আপনার ত্বক ধীরে ধীরে আর্দ্রতা হারিয়ে হয়ে উঠছে শুষ্ক। আর শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কিন্তু মারাত্মক। এখন থেকেই এই শুষ্ক ত্বকের যত্ন না নিলে, সঠিক পরিচর্যা না করলে রুক্ষতা আরও বাড়বে। এতে আপনার ত্বক ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে আরও নিষ্প্রাণ ও দীপ্তিহীন। অনেক সময় ত্বক ফেটে গিয়ে, ত্বকের উপরিভাগ কালচেও হয়ে যেতে পারে।

আমরা জানি, শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া মোটেই সহজ কথা না। চারিদিকে কত রকমের ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার, ফেসপ্যাকের বিজ্ঞাপন। তবে কোনটা যে সঠিকভাবে এই সমস্যার সমাধান, তা নিশ্চিত করে বলে না কেউই। তাই, আপনার শুষ্ক ত্বকের যত্ন কীভাবে নেবেন, সেই ব্যাপারে আজ আমরা আলোচনা করব।

ত্বক কেন শুষ্ক হয়ে যায়?

যাঁদের বরাবরই ড্রাই স্কিন তাঁদের কথা আলাদা। কিন্তু তা বাদে যাঁদের নর্ম্যাল স্কিন কিংবা অয়েলি স্কিন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ত্বকেও ড্রাই রেড প্যাচ দেখা দিতে পারে। ত্বক অত্যধিক শুষ্ক হয়ে গেলে তা ফেটে যেতে পারে এবং এই প্যাচি অংশগুলিতে চুলকানির সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গা ফুলে যাওয়া ও লালচে ভাব অনুভব করতে পারেন।

আমাদের ত্বকে কিছু বিশেষ ফ্যাট থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হল ফ্যাটি অ্যাসিড (লিপিডস)। এই ফ্যাট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বককে নমনীয় ও কোমল রাখে। কোনও কারণে যদি এই বিশেষ উপাদানগুলি কমে যায়, তাহলে ত্বকের উপরিভাগ আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক ও খসখসে হয়ে উঠতে পারে এবং সেখানে ক্র্যাক লাইন দেখা দিতে পারে। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা সিরোসিসও ঘটাতে পারে, যা শুষ্ক ত্বকেরই অপর নাম। () তাহলে শুষ্ক ত্বকের বিউটি টিপসগুলি জানার আগে জেনে নিন, ঠিক কী কী কারণে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

  • আবহাওয়ার বদলে বিশেষত শীতকালে বা ঠাণ্ডার মরশুমে আবহাওয়ার শুষ্কতার জন্য
  • যদি আপনি কোনও শুষ্ক অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বাস করেন, তাহলে সেখানকার শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে
  • যদি ঘরে হিটার চালানোর অভ্যাস থাকে, তবে হিটারের শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে এলে
  • প্রতিদিন গরম জলে স্নান করলে
  • সুইমিংপুলের ক্লোরিনযুক্ত জলের প্রভাবে
  • সাবান বা ডিটারজেন্টে থাকা ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ বা অতিরিক্ত ক্ষারের সংস্পর্শে এলে
  • স্কিন ক্লিনজারের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে
  • অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, বা এগজিমার মতো চর্মরোগ থাকলে

এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ বা হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা, অ্যালার্জির মতো জটিল রোগ থাকলেও ত্বকের আর্দ্রতা হারাতে পারে। সেসময় ড্রাই স্কিনেও ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার

যাইহোক, অনেক হল সমস্যার কথা। সমস্যা যখন আছে, তার সমাধানও আছে নিশ্চিত। তাহলে এবার আসি সেইসব সমাধানের কথায়। জেনে নিন, বাড়িতে বসে সহজেই কীভাবে যত্ন নেবেন শুষ্ক ত্বকের।

  • ঘরোয়া টোটকা ১ঃ অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি এবং ই, খনিজ ও পুষ্টি পদার্থ () যা ত্বকের জন্য বিশেষ উপযোগী। অ্যাভোকাডো কোলাজেন সংশ্লেষণ বৃদ্ধি করে ত্বক মেরামতোিতে সাহায্য করে এবং ত্বককে ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে। সর্বোপরি, অ্যাভোকাডোর প্যাক ত্বকের ময়েশ্চার রক্ষা করে ও ত্বককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়।

উপকরণঃ

একটি অর্ধেক অ্যাভোকাডো ও হাফ কাপ কাপ মধু

কী করণীয়ঃ

একটি বাটিতে অর্ধেক অ্যাভোকাডো নিয়ে চামচ দিয়ে পিষে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনও বড় দানা না থাকে। এবার তাতে মধু মেশান। এর ফলে এক প্রকার থকথকে মসৃণ প্রলেপ তৈরি হবে। প্যাকটি সারা মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর ঈষৎ উষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

ব্যবহারঃ

সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার প্যাকটি ব্যবহার করলে ফল পাবেন খুব শীঘ্রই। তবে অ্যাভোকাডোতে অ্যালার্জি থাকলে প্যাকটি ব্যবহার করবেন না।

  • ঘরোয়া টোটকা ২ঃ মাতৃদুগ্ধ

বেশীরভাগ মাই তাঁদের বাচ্চাদের শুষ্ক ত্বকের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। আবার বাচ্চা বলে যা খুশি তাই ব্যবহারও করতে পারেন না। তবে আর চিন্তার কারণ নেই। মায়ের দুধ বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের পরিচর্যাতেও কার্যকরী। মাতৃদুগ্ধ বাচ্চাদের ত্বকের জ্বালা বা প্রদাহ প্রশমিত করতে পারে। শুধু তাই নয়, ডায়পার পরে বাচ্চাদের শরীরে র‍্যাশ বেরোলে বা অ্যাটোপিক এগজিমার মতো চর্মরোগও তা সারিয়ে দিতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিবডি, ইজিএফ (এপিডার্ম্যাল গ্রোথ ফ্যাক্টর) এবং এরিথ্রোপোয়েটিন ত্বকের কোষগুলির বৃদ্ধি ও মেরামতে সাহায্য করে। ()

উপকরণঃ

মাতৃদুগ্ধ ও কটন বল

করণীয়ঃ

প্রথমেই দুধে তুলোর বল ভিজিয়ে ড্রাই প্যাচগুলির ওপরে লাগিয়ে দিন। এবার তা শুকিয়ে যাওয়ার পর জল দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে দিন।

ব্যবহারঃ

সপ্তাহে দুবার পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে আপনার বাচ্চার শুষ্ক ত্বকের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ৩ঃ অ্যালোভেরা

ড্রাই ও প্যাচি স্কিনের চিকিৎসায় অ্যালোভেরা জেল বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা হয়। কারণ, এতে থাকা পলিস্যাকারাইড ত্বকের আর্দ্রতার মাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটি ত্বকের মধ্যে কোলাজেন ও ইলাস্টিন উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা ত্বকের কোমলতা ও ইলাস্টিসিটি পুনরুদ্ধার করে। ফলে আপনিও ত্বকের ঝুলে যাওয়ার সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পান। এমনকি, সোরিয়াসিস, বা এগজিমার মতো রোগের কারণে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়লে, অ্যালভেরার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য এইসব রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি হ্রাস করে। ()

উপকরণঃ

অ্যালোভেরা পাতা

করণীয়ঃ

প্রথমে অ্যালোভেরা পাতাটি তির্যকভাবে কেটে নিন। এবার তার ভিতরে থাকা জেলটি বার করুন। জেলটি সারা মুখে লাগিয়ে মালিশ করুন যতক্ষণ না পর্যন্ত জেলটিকে ত্বক পুরোপুরি শুষে নেয়। সারারাত অ্যালোভেরা জেলটি এভাবেই মুখে লাগিয়ে রাখুন। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহারঃ

প্রত্যেকদিন রাতে নিয়ম করে এভাবে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে মালিশ করলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর হবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ৪ঃ বিভিন্ন রকম তেল

চলুন দেখে নিই, কীভাবে বিভিন্ন রকম তেল ব্যবহার করে আপনি আপনার ত্বক্কে শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন।

নারকেল তেল

নারকোল তেল ত্বকের হারানো আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করে সঠিক আর্দ্রতার মাত্রা বজায় রাখতে পারে। এছাড়া এতে এক প্রকার স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা ত্বকে কমে যাওয়া ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা পুনরুদ্ধার করে এবং সমতা বজায় রাখে। () যে কোনও রকম বেবি অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

করণীয়

শুষ্ক জায়গাগুলিতে নারকোল তেল লাগিয়ে রাখতে হবে। দিনে এক থেকে দু’বার তেল মাখলেই কয়েকদিনের মধ্যে শুষ্কতা হ্রাস পাবে।

জোজোবা অয়েল

জোজোবা অয়েল সমস্ত ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রেই ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বককে কোমল ও নরম করে ত্বকে নতুন কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য শুষ্ক ত্বকের সমস্যার উপসর্গগুলি কমাতে এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান যেকোনও ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। এমনকি, জোজোবা অয়েলে রয়েছে অ্যান্টি-এজিং উপাদান। () জোজোবা অয়েলের পরিবর্তে অর্গ্যান অয়েলও শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

উপকরণ

অর্ধেক চা চামচ জোজোবা অয়েল ও ২ কাপ গরম জল

করণীয়

গরম জলে তোয়ালে বা রুমাল ভিজিয়ে ৫-৭ মিনিট মুখের ওপর দিয়ে রাখুন। তারপর, জোজোবা অয়েল হাতে নিয়ে আলতো করে সার্কুলার মোশানে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। শেষের দিকে, কয়েক মিনিট আপওয়ার্ড মোশানে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। ত্বক তেলটা শুষে নেওয়ার পর, বাড়তি তেলটা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে হবে।

ব্যবহার

সপ্তাহে এক-দু’বার জোজোবা অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে। খেয়াল রাখবেন কাপড় ভেজানোর জলটা যেন অত্যন্ত বেশি গরম না হয়।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলের ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বকে পুষ্টি জোগায়। ক্ষতিকারক সূর্যরশ্মির কারণে স্কিন টিস্যু ড্যামেজ হয়ে গেলে ত্বক লাল হয়ে যায় যা অনেক সময় চুলকানির সৃষ্টি করে। () অলিভ অয়েলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে ফলে সানবার্ন হয় না এবং শুষ্ক ত্বকের অন্যান্য ক্ষতও নিরাময় হয়। এর পাশাপাশি ল্যাভেন্ডারেও আছে শুষ্ক ত্বকের আনুষাঙ্গিক উপসর্গ ও ক্ষত নিরাময়ের ক্ষমতা।

উপকরণ

২ চা চামচ অলিভ অয়েল ও ১-২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল

করণীয়

দুটি তেল ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে, ঘাড়ে ও গলায় লাগাতে হবে। এরপর তা ভালোভাবে হালকা হাতে ম্যাসাজ করতে হবে কয়েক মিনিট ধরে। ত্বক তেল শুষে নেওয়ার পর কাপড় বা তোয়ালের সাহায্যে অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলতে হবে। এই দুই তেলের বিকল্প হিসেবে, কালোজিরার তেল বা গ্রেপসিড অয়েলের মতো অন্যান্য এসেন্সিয়াল অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্যবহার

প্রত্যেকদিন রাতে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা মিটবে। তবে ল্যাভেন্ডার তেল বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা উচিৎ নয়, এতে ত্বকে চুলকানি অনুভব হতে পারে।

আমন্ড অয়েল

সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে চিনে এবং আয়ুর্বেদ মতে শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় আমন্ড অয়েলের ব্যবহার হয়ে আসছে। এর ময়েশ্চারাইজার উপাদান ত্বককে মসৃণ ও কোমল করে তোলে, স্কিন টোন ও ত্বকের বর্ণের উন্নতি ঘটায় এবং ত্বককে দীপ্তিময় করে তোলে। () জার্মেনিয়াম অয়েলের অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বকের যত্নে সহায়ক। এটি এগজিমা বা শুষ্ক ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও উপসর্গ নিরাময় করতে পারে। ()

উপকরণ

৪ টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল ও ২-৩ ফোঁটা জার্মেনিয়াম তেল

করণীয়

একটি জীবাণুমুক্ত কাঁচের বোতলে আমন্ড অয়েল নিন। এবার, কয়েক ফোঁটা জার্মেনিয়াম তেলে ফেলে বোতলটি ঝাঁকিয়ে তেলদুটি ভালোভাবে মেশাতে হবে।

ব্যবহার

প্রতিদিন রাতে ময়েশ্চারাইজারের পরিবর্তে এই তেলের মিশ্রণটি ব্যবহার করলে সুফল পাবেন নিশ্চিত। জার্মেনিয়াম তেলের পরিবর্তে তিসির তেল বা কালোজিরার তেল বা রোসহিপ অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিটামিন-ই অয়েল

ত্বকে মাত্রারিক্ত শুষ্কতা থাকলে ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ভিটামিন-ই অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই তেলে ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যা নিরাময় করতে পারে এবং ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে। (১০)

উপকরণ

১-২ টি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল

করণীয়

ক্যাপসুলটি ফাটিয়ে তেল বার করে নিন। ত্বকের যে যে অংশে অত্যধিক রুক্ষভাব অনুভব হচ্ছে, সেখানে তেল লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

প্রতিদিন রাতে ভিটামিন-ই তেল মাখলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে কোমল ও দীপ্তিময়।

সরষের তেলের ব্যবহার

আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় শুষ্ক ত্বকের যত্নে ও সমস্যা নিরাময়ে সরষের তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। (১১) যদিও এর কোনও বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণ পাওয়া যায় না।

করণীয়

আঙুলের ডগায় ১-২ ফোঁটা সরষের তেল নিন। এবার আঙুলটি হাতে ডলে নিয়ে তেল গরম করে ড্রাই প্যাচগুলির ওপর লাগিয়ে নিতে হবে। সারা রাত এভাবে রেখে সকালে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

সরষের তেলের বিকল্প হিসেবে, জ্যাসমিন অয়েল, কেরি অয়েল, তামানু অয়েল, তিলের তেল বা শণবীজের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্যবহার

দিনে দু’বার, কমপক্ষে প্রতিদিন রাতে একবার করে তেলটি ত্বকের শুষ্ক অংশে লাগালে চুলকানি বা লালচে ভাব কমতোে পারে।

কুমকুমাদি তেল

কুমকুমাদি তেল হল একটি ভেষজ আয়ুর্বেদিক তেল, যা ১৬-২১ টি প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। এই আয়ুর্বেদিক তেলটি ত্বকের পুষ্টি জোগায় ও ত্বককে সতেজ রাখে। এর প্রধান উপাদান হল জাফরান, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং হাইপারপিগমেন্টেশন হ্রাস করতে সাহায্য করে। (১২) তেলটি ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখে, ত্বককে ক্ষতি ও অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

করণীয়

২-৩ ফোঁটা কুমকুমাদি তেল নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। সারারাত তেলটি লাগিয়ে রাখলে ভালো ফল মিলবে।

ব্যবহার

প্রতিদিন রাতে এই তেল ব্যবহার করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আরও সুন্দর ও প্রাণবন্ত।

এই ভেষজ তেলগুলি ছাড়াও, ত্বকের শুষ্কতা হ্রাস করার জন্য সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কড লিভার অয়েলের ব্যবহারও করা যেতে পারে। প্রত্যেকদিন তেল মাখলে, ত্বকের প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বজায় থাকে। এমনকি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের শুষ্কতা ও ড্রাই প্যাচগুলি দূর হবে এবং ত্বক হয়ে উঠবে আরও নরম, কোমল ও মসৃণ।

পুনশ্চ- ওপরের এই তেলগুলির কোনওটি যদি আগে ব্যবহার না করে থাকেন, তবে এই তেলগুলি মাখা শুরু করার আগে আপনার ত্বকের প্যাচ টেস্ট অবশ্যই করিয়ে নেবেন। কোনওরকম অ্যালার্জি বেরোলে বা অস্বস্তি অনুভব করলে মাখা বন্ধ করে দেবেন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

  • ঘরোয়া টোটকা ৫ঃ গ্লিসারিন

শুষ্ক ত্বকে, শুষ্ক ও ফেটে যাওয়া ঠোঁটে গ্লিসারিন জাদুর মতো কাজ কাজ করে। গ্লিসারিন ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, (১৩) হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং শুষ্ক ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর করে।

উপকরণ

এক চা চামচ গ্লিসারিন ও এক চা চামচ গোলাপ জল

করণীয়

গোলাপ জল ও গ্লিসারিন ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকের শুষ্ক অংশে লাগিয়ে নিন। এক ঘন্টা পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে প্রতিদিন একবার করে গ্লিসারিন আর গোলাপ জলের এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন।

  • ঘরোয়া টোটকা ৬ঃ গ্রিন-টি

পলিফেনল সমৃদ্ধ গ্রিন-টি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। (১৪) এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে প্রয়োজনীয় আর্দ্রভাব ফিরিয়ে আনে ও বজায় রাখে।

উপকরণ

হাফ চা চামচ গ্রিন-টি’র পাতা ও এক টেবিল চামচ ফ্রেশ ক্রিম

করণীয়

ক্রিমের মধ্যে গ্রিন-টি পাতাগুলি ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রণটি কয়েক মিনিটের জন্য এক জায়গায় রেখে দিন। এবার মিশ্রণটি আবার ভালোভাবে মিশিয়ে সারা মুখে মেখে নিন ও ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করুন আলতো ভাবে। ১৫ মিনিট পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্কতাবেশি থাকলে আরওবেশিবারও ব্যবহার করতে পারেন।

  • ঘরোয়া টোটকা ৭ঃ মধু

সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে মধু ব্যবহার হয়ে আসছে। রূপচর্চায় মধুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। মধু ত্বককে আর্দ্র ও কোমল রাখে। ত্বক যদি অত্যধিক শুষ্ক হয়ে যায়, কোনও রকম প্রসাধনীর বদলে হাতে তুলে নিন মধু আর দেখুন মধুর কামাল।

করণীয়

এক টেবিল চামচ মধু হাতে নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিয়ে এবং ২০-২৫ মিনিট ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

প্রতিদিন এভাবে মধু দিয়ে ম্যাসাজ করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে কোমল, মসৃণ ও উজ্জ্বল।

  • ঘরোয়া টোটকা ৮ঃ ভিটামিন-সি

ভিটামিন-সি এর অভাবে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষার পাশাপাশি, ত্বককে টানটান রাখে, ত্বকে ফাইন লাইনস, রিংকলস সৃষ্টি হওয়া থেকে রক্ষা করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-এজিং উপাদান ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ত্বকের ক্ষত দ্রুত নিরাময় করে। এমনকি, রোসেসিয়ার মতো ত্বকের রোগও সারাতে পারে। (১৫)

তাই আমাদের উচিৎ ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলালেবু, পাতিলেবু, আনারস, আঙুর, আমলকি, টমেটো ইত্যাদি টক জাতীয় ফল বা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ শাকসব্জি খাওয়া। টমেটো বা লেবুর রস বা কমলালেবুর খোসা দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে শুষ্ক ত্বকের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

  • ঘরোয়া টোটকা ৯ঃ ওটমিল

শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় একটি অন্যতম কার্যকরী ঘরোয়া উপাদা্ন হল ওটমিল। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য লালচে ভাব, চুলকানির মতো শুষ্ক ত্বকের বিভিন্ন রকম উপসর্গ চটজলদি নিরাময় করতে পারে। ফেটে যাওয়া ত্বকের ড্রাই প্যাচগুলি সারিয়ে তুলতেও সাহায্য করে ওটমিল। (১৬)

উপকরণ

২-৩ টেবিল চামচ ওটমিল, ১ চা চামচ মধু, একটি কাপের ১/৪ ভাগ দুধ

করণীয়

প্রথমেই দুধ গরম করুন। এবার একটি পাত্রে ওটমিল নিয়ে, সেই পাত্রে দুধ ঢেলে ভালোভাবে মেশান। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পর তাতে মধু মেশান। এবার মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা ভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুখে ম্যাসাজ ও স্ক্রাবিং করুন। এরপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে দু-তিন বার এই ফেস স্ক্রাব বা মাস্কটি ব্যবহার করে দেখুন, ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে আর সমস্যাও কমবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১০ঃ মেথি

মেথিতে থাকা মিউসিলেজ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ত্বকের মসৃণভাব বজায় রাখে, দ্রুত ত্বকের ক্ষত নিরাময় করতে পারে এবং ত্বক করে তোলে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়। (১৭)

উপকরণ

২ টেবিল চামচ মেথি বীজ, কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল কিংবা নারকোল তেল ও সামান্য জল

করণীয়

প্রথমেই মেথি বীজ গুঁড়ো করে নিন। এবার মেথি গুঁড়োর সঙ্গে জল ও তেল ভালোভাবে মিশিয়ে মাঝারি ঘণত্বের একটি মসৃণ প্রলেপ বানান। প্রলেপটি সারা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে দু’বার ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করলেই শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর হবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১১ঃ আদা

আদায় টোনিং এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা ত্বকের বিভিন্ন রকম দাগ বা ক্ষত সারিয়ে ত্বককে পুনরায় উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে তোলে। আদার অ্যান্টি-এজিং উপাদান মুখ থেকে বয়সজনিত ছাপ দূর করতে সাহায্য করে।

উপকরণ

এক টেবিল চামচ আদার রস, এক চা চামচ মধু, এক চা চামচ গোলাপ জল

করণীয়

তিনটে উপাদান ভালোভাবে মেশান। এবার আঙুলের ডগা বা ফেস ব্রাশ দিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিন মিশ্রণটি। ১০-১৫ মিনিট পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে অন্তত একবার বা দু’বার এই আদার রস, মধু এবং গোলাপ জলের একটি প্যাক মেখে দেখুন, আপনার শুষ্ক ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর হবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১২ঃ বেসন

বেসন ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে জমে থাকা ধুলো-ময়লা, মৃত কোষ, দূর করে ত্বকের হারানো জেল্লা পুনরায় ফিরিয়ে আনে। এর সঙ্গে যদি মেশে হলুদ, মধু, গোলাপ জল ও মিল্ক ক্রিমের গুণ, তাহলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে নিমেষেই।

উপকরণ

২ টেবিল চামচ বেসন, হাফ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চা চামচ মধু, এক চা চামচ ফ্রেশ ক্রিম, গোলাপ জল

করণীয়

সব উপকরণগুলি ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট বানাতে হবে। এবার পুরো মুখে প্রলেপটি লাগিয়ে নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

১৫ মিনিট পর ফেসপ্যাকটি শুকিয়ে গেলে মুখ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করতে চাইলে আজকেই আপনার স্কিন কেয়ার রুটিনে যোগ করুন এই ফেসপ্যাকটি।

  • ঘরোয়া টোটকা ১৩ঃ পেট্রোলিয়াম জেলি

ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যাচ্ছে? ব্যবহার করুন পেট্রোলিয়াম জেলি। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং প্রয়োজনীয় আর্দ্রভাব বজায় রাখে। (১৮) এটি সামান্য চ্যাটচ্যাটে হলেও ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে এটি মেখে শোওয়ার আগে আপনার বালিশটি তোয়ালে দিয়ে ঢেকে নিতে ভুলবেন না।

করণীয়

সামান্য ভেসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন। সারা রাত মুখে লাগিয়ে রাখুন জেলিটি। যদি অত্যধিক চ্যাটচ্যাটে লাগে তবে এক ঘন্টা পর তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে অতিরিক্ত জেলি মুছে ফেলতে পারেন। পরেরদিন সকালে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

ত্বক মাত্রারিক্ত শুষ্ক হলেও প্রতিদিন পেট্রোলিয়াম জেলি মাখলে নিশ্চিতভাবে আপনার সব সমস্যা দূর হবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১৪ঃ নিম পাতা

নিম ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং ত্বকের কোষগুলিকে পুনর্জ্জীবিত করে তোলে। ফলে আপনার ত্বক হয়ে ওঠে আরো দীপ্তিময় ও লাবণ্যময়। নিম পাতা শুষ্ক ত্বকের চুলকানি ও জ্বালাভাবে কমাতে পারে নিমেষেই আর ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে। (১৯)

উপকরণ

২ চা চামচ শুকনো নিম পাতা, ১ চা চামচ মধু বা দুধ, এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং জল

করণীয়

সব উপাদান মিশিয়ে মসৃণ একটি পেস্ট বানান ও মুখে মেখে নিন। ১০-১২ মিনিট পর মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

প্রত্যেকদিন বা সপ্তাহে ৪-৫ দিন নিমের এই ফেসপ্যাকটি মেখে দেখুন, আপনার শুষ্ক ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর হবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১৫ঃ হলুদ

শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় হলুদের ব্যবহার অনস্বীকার্য। হলুদে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের যে কোনও রকম সংক্রমণ প্রশমিত করে। এছাড়াও হলুদে আছে কারকুমিন নামক এক উপাদান যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে, এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। (২০) শুধু তাই নয়, হলুদ ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে, কোষগুলিকে পুনর্জ্জীবিত করে তোলে এবং ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে।

উপকরণ

হাফ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, এক চা চামচ মধু, এক চা চামচ ফুল-ফ্যাট দই বা অলিভ অয়েল বা অর্গ্যান অয়েল

করণীয়

সব উপাদান মিশিয়ে মসৃণ একটি পেস্ট বানান ও মুখে মেখে নিন। ১৫ মিনিট পর মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

প্রত্যেকদিন বা সপ্তাহে ১-২ দিন হলুদের এই ফেসপ্যাকটি মাখলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে কোমল, মসৃণ ও উজ্জ্বল।

  • ঘরোয়া টোটকা ১৬ঃ ইপসম সল্ট (ম্যাগনেশিয়াম সালফেট)

ইপসম সল্ট (ম্যাগনেশিয়াম সালফেট) মৃত কোষ সরিয়ে ত্বককে এক্সফোলিয়েট ও টক্সিন মুক্ত করে উজ্জ্বল, মসৃণ ও দাগহীন করে তুলতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাগনেশিয়াম সল্ট ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে ত্বকের লালচে ভাব, খসখসে ভাবের মতো শুষ্ক ত্বকের যাবতীয় সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

উপকরণ

২ কাপ ইপসম সল্ট, একটি কাপের ১/৪ ভাগ পেট্রোলিয়াম জেলি বা অলিভ অয়েল, ১০ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল বা জার্মেনিয়াম অয়েল

করণীয়

সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন এবং মিশ্রণটি ঠাণ্ডা ও শুকনো জায়গায় একটি এয়ারটাইট পাত্রে রাখুন।

প্রতিদিন স্নানের আগে, মুখের ত্বক সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিন ইপসম সল্টের এই স্ক্রাবটি। এক টেবিল চামচ মতো স্ক্রাবার নিলেই হবে। ৩-৪ মিনিট ধরে সার্কুলার মোশানে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। কুসুম কুসুম গরম জলে মুখটা ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে ১-২ বার এভাবে স্ক্রাবিং করলে আপনার সব সমস্যা দূর হবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১৭ঃ দই

দইয়ে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা ত্বককে আর্দ্র ও কোমল করে তোলে। দই দিয়ে বানানো যে কোনও ফেস মাস্ক বা প্যাকই ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণভাব বৃদ্ধি করে, ত্বক করে তোলে টানটান।

উপকরণ

৩ টেবিল চামচ গুঁড়ো চিনি, একটি কাপের ১/৪ ভাগ দই, ২ চা চামচ মধু

করণীয়

সব উপাদান একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা ভাবে সার্কুলার মোশানে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুখে ম্যাসাজ ও স্ক্রাবিং করুন। পাঁচ মিনিট পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে মাত্র এক বার এই ফেস স্ক্রাবটি ব্যবহার করে দেখুন, ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে আর সমস্যাও কমবে।

  • ঘরোয়া টোটকা ১৮ঃ যষ্টিমধু

যষ্টিমধুতে থাকা মিউসিলেজ শুষ্ক ত্বকের যাবতীয় সমস্যা কমাতে ও নিরাময় করতে সাহায্য করে।

উপকরণ

১ চা চামচ যষ্টিমধু গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১-২ ড্রপ ল্যাভেন্ডার তেল (ইচ্ছে হলে)

করণীয়

হার্ব্যাল পাওডারটির সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে সারা মুখে লাগয়ে নিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে ২-৩ বার প্যাকটি মাখলেই উপকার পাবেন হাতেনাতে।

আপনি যদি মুখের পাশাপাশি ত্বকেও শুষ্কতা অনুভব করেন, ঘরে বানানো এই টোটকাগুলি সারা দেহেও ব্যবহার করতে পারেন। এবার আসি, শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী কিছু ফেসপ্যাক সম্পর্কিত আলোচনায়।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে ফেসপ্যাক

এবার আসুন দেখে নিই শুষ্ক ত্বকের জন্য আমরা কী কী ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারি।

লেবুর ফেসপ্যাক

লেবু ও মধুর ফেসপ্যাক হল শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করার সবথেকে সহজ ও কার্যকরী উপায়। এটি শুধু ত্বকের আর্দ্রতাই ফিরিয়ে আনে না, বরং ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে, কালচেভাব দূর করে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

উপকরণ

২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ মধু ও আমন্ড অয়েল

করণীয়

লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার

সপ্তাহে একবার এই ফেসপ্যাকটি লাগালেই ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে। ত্বক হয়ে উঠবে তারুণ্যে ভরপুর, উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়।

শসার ফেসপ্যাক

ত্বকের যেকোনও রকম জ্বালা বা প্রদাহে শসার রস সাময়িক এক শীতলতার অনুভূতি দেয়। সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং ত্বক করে তোলে মসৃণ ও কোমল।

উপকরণ

১/৪ ভাগ শসা, ১ টেবিল চামচ দই বা অ্যালোভেরা জেল

করণীয়

প্রথমে শসার একটি মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এরপর তাতে দই বা অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে নিন।

ব্যবহার

সপ্তাহে দুদিন এই ফেসপ্যাকটি মুখে লাগালে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর হবে।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় ডায়েট

সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সুন্দর ত্বক পেতে হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা অত্যন্ত জশ্রী। যাঁরা শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন, সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত খান এইসব খাবার

  • প্রত্যেকদিন সকালে উঠে কড়া দুধ চা বা কফির পরিবর্তে খান এক কাপ গ্রিন টি। এতে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ত্বকের রুক্ষতা দূর করে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং শরীর করে তোলে টক্সিনমুক্ত।
  • আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন একটি করে ডিম বা ডিমের সমতুল্য প্রোটিনযুক্ত খাবার অবশ্যই রাখুন। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও নমনীয়তা বজায় থাকবে।
  • আপনার খাদ্য তালিকায় মোটা ত্বকযুক্ত তৈলাক্ত মাছ রাখার চেষ্টা করুন। এর মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে জিংক, যা নতুন কোষ তৈরি করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বককে মেরামত করে।
  • খাদ্যতালিকায় যদি থাকে কাঁচা টমেটো, তবে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর হবে খুব তাড়াতাড়ি। এমনকি, এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে এবং ত্বকের বার্ধক্য আসতেও বাধা দেবে।
  • টমেটোর মতো গাজর এবং অ্যাভোকাডোতেও আছে ভিটামিন-সি, যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও ক্যাপসিকাম, মিষ্টি আলু, ব্রকলিও ত্বকের জন্য উপকারী।
  • অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করা খাবার খেলে, দেহে ফ্যাট কমার পাশাপাশি এতে থাকা ভালো ফ্যাট ত্বককে শুষ্ক হওয়ার হাত থেকেও বাঁচাবে।
    প্রতিদিন খুব কম করে হলেও ৮ গ্লাস জল পান করার চেষ্টা করুন।

শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসা

  • সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু চর্মরোগ কিংবা শুষ্ক আবহাওয়া কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা আপনার ত্বক অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার, ক্রিম বা তেল প্রেসক্রাইব করে দেবেন।
  • এছাড়া আপনার যদি অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, বা এগজিমার মতো চর্মরোগ হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রেও ডাক্তারবাবু সঠিক মলম বা ওষুধ লাগানোর পরামর্শ দেবেন।
  • এছাড়াও, শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থাকলে সাবান, সুগন্ধী, প্রসাধন সামগ্রী, জামাকাপড় কাচার ডিটারজেন্ট এবং সর্বোপরি পোষাকের কাপড়ের বা ফেব্রিকের কোয়ালিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া উচিৎ। ত্বকে কোনওরকম সমস্যা থাকলে খুব বেশি টাইট ফিটিং জামাকাপড় না পরে সুতির বা গেঞ্জি কাপড়ের বস্ত্র ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়।

কখন শুষ্ক ত্বকের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি আপনার শুষ্ক ত্বকের কারণে হওয়া সমস্যাগুলি যেমন ত্বক ফেটে যাওয়া, ফেটে যাওয়া অংশে চুলকানো, লালচে ও ফোলা ভাব এই উপসর্গগুলি দিনকে দিন বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্টের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। চিকিৎসক আপনার মেডিকেল হিস্ট্রি জেনে, কিছু শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর জানিয়ে দেবেন ঠিক কী কারণে আপনার সমস্যা দিন দিন গুরুতর হয়ে উঠছে।

শুষ্ক ত্বক প্রতিরোধের উপায়

শুষ্ক ত্বক হলে আপনার যা যা এড়িয়ে চলা উচিত, তা নীচে আলোচনা করা হল।

  • দীর্ঘক্ষণ এসির মধ্যে থাকা
  • সানস্ক্রিন না মেখে বা ছাতা ছাড়া সরাসরি রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাফেরা করা
  • কৃত্রিম অ্যান্টি ট্যান থেরাপি নেওয়া
  • অত্যধিক কফি পান করা
  • অত্যধিক ধূমপান করা
  • অ্যালকোহল সমৃদ্ধ স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা

কী কী মেনে চলবেন

শুষ্ক ত্বক হলে আপনার যা যা মেনে চলা উচিত-

  • নিয়মিত ঠাণ্ডা জলে স্নান করা
  • এসএলএস বা প্যারাবেন মুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করা
  • শুষ্ক ত্বকের জন্য উপযুক্ত স্ক্রাব বা ক্রিম বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা
  • এসির পরিবর্তে ডিহিউমিডিফায়ারের ব্যবহার করা
  • ভিটামিন-সি, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

শুষ্ক ত্বক পরিচর্যার অন্যান্য উপায়

  • প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। শীতে জল তেষ্টা কম পেলেও কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ গ্লাস জল পান করা উচিৎ।
  • স্নান বা হাত মুখ ধোয়ার সময় খুব গরম জল ব্যবহার করা উচিৎ না। এতে ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়। কুসুম গরম জল ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ত্বককে সবসময় আর্দ্র রাখার চেষ্টা করুন। দিনে অন্তত ২-৩ বার ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক নরম, মসৃণ ও কোমল থাকবে, শুষ্কতা দূর হবে।
  • সাবানের ক্ষতিকারক রাসায়নিক ত্বককে রুক্ষ ও শুষ্ক করে তুলতে পারে। তাই, অ্যালকালাইন বা বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ফেশওয়াশ এড়িয়ে চলুন।
  • প্রসেসড মাছ, মাংস, প্রচুর পরিমাণে চিজ, ক্রিম, মাখন, কৃত্রিম সুইটনার খাদ্য তলিকা থেকে বাদ দিন।অত্যধিক চা-কফি পান করাও উচিৎ নয়।

আপনার ত্বকের ধরন যেমনই হোক না কেন, ঠিকমতো যত্ন না করলে ত্বক উজ্জ্বলতা হারিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়বে। শুষ্ক ত্বক আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে বেশি সময় নেবে না। তাই গোড়াতেই নজর দিন ও শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিন। এবং পরিচর্যার সঠিক উপায় বেছে নিন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলীঃ

গ্রীষ্মকালে শুষ্ক ত্বকের যত্ন কীভাবে নেওয়া উচিৎ?

সঠিক ময়েশ্চারাইজার ও সাবান ব্যবহারের পাশাপাশি উপরিউক্ত ঘরোয়া টোটকাগুলি ব্যবহার করতে পারেন। গরমে ঘাম বেশি হয়, ফলে ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল কমপক্ষে ১-২ লিটার জল পান করা উচিৎ।

স্নান কি আপনার ত্বককে শুষ্ক করে তুলতে পারে?

হ্যাঁ। গরম জলে স্নান করলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। গরম জল ত্বক থেকে তেল সরিয়ে তাকে শুষ্ক ও নিস্তেজ করে তুলতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের র‍্যাশ কী?

অত্যধিক শুষ্কতার কারণে ত্বক ফেটে গেলে, ফাটা অংশগুলিতে চুলকানি অনুভব করতে পারেন। সেখানেই তৈরি হয় র‍্যাশ।

সদ্যোজাত শিশুর শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় কী লাগানো যেতে পারে?

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। তিনিই শিশুকে দেখে ও পরীক্ষা করে সঠিক লোশন বা ময়েশ্চারাইজার প্রেসক্রাইব করে দেবেন।

শুষ্ক ত্বক আর্দ্র করার দ্রুততম উপায় কী?

স্নানের পর বা ত্বকে শুষ্কতা অনুভব করলে ত্বককে সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। আর অত্যধিক রুক্ষতা বা খসখসে ভাব অনুভব করবেন না।

শুষ্ক ত্বক কি অন্য কোনও রোগের কারণ হতে পারে?

না। শুষ্ক ত্বক ক্ষতিকারক না। তবে সঠিকভাবে পরিচর্যা না করলে ত্বকের স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে ক্র্যাক বা ফাটল, চুলকানি বা লালচে ভাব বাড়তে পারে।

শুষ্ক ত্বকের প্রতিরোধে কোন কোন ভিটামিন উপকারী?

ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, বায়োটিন বা ভিটামিন-বি৭ শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী।

20 sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch