তেজপাতা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য | All About Bay Leaf (Tej Patta) in Bengali

Written by

তেজপাতা নামটি আমাদের কারোর কাছে অজানা নয়। আমাদের রান্না ঘরের প্রয়োজনীয় মশলা পাতি গুলির মধ্যে অন্যতম একটি সুপরিচিত উপাদান হলো তেজপাতা। এটি মূলত রান্নায় সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। যদিও রান্নার পর এটি ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু এটির ব্যবহার রান্নায় সুগন্ধ এবং পুষ্টি বৃদ্ধি করে, যার ফলে এটি আমাদের রান্নাঘর এর একটি পরিচিত আনাজ। তেজপাতা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এটির মধ্যে অ্যান্টি- ক্যান্সার, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমূহ রয়েছে। যেগুলো আমাদের শরীরের রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, দৈনিক তেজপাতা সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করার ফলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে যায়, প্রদাহ এবং যেকোনো ছত্রাকের সংক্রমণ এর বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করতে পারে। আজকে আমরা রান্নাঘরের এই প্রয়োজনীয় উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তেজপাতা আমাদের সুপরিচিত একটি মসলা হলেও এটি সম্পর্কে বিস্তারিত হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। তাই আজকে তেজপাতা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।

তেজপাতা কি?

তেজপাতা হলো এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত পাতা। যা মূলত উপসাগরীয় লরেল ইন্ডিয়ান তেজপাতা গাছ, ইন্দোনেশিয়ান লরেল এবং পশ্চিম ভারতীয় উপকূল সহ বেশ কিছু অঞ্চলে উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই পাতার তীক্ষ্ণ এবং তিতকুটে রয়েছে। তবে এটি মূলত রান্নায় সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এই পাতার সুগন্ধি ছাড়াও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে। সেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

তেজপাতার উপকারিতা

এবারে আমরা তেজ পাতা আমাদের কি কি স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সহায়তা করে থাকে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব –

১) ডায়াবেটিস নিরাময়ে তেজপাতার ভূমিকা :

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তেজপাতা টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে। খাবারে স্বাদ ও সুগন্ধ সরবরাহ করার পাশাপাশি তেজপাতা গ্লুকোজ বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। তেজপাতা গুলি শরীরে খাবারের আসক্তিকে কম করে। যার ফলে এগুলি গ্রহণের ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কম হয়। (1)

২) শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিরাময়ে তেজপাতার ভূমিকা :

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার চিকিৎসার ক্ষেত্রে তেজ পাতার নির্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তেজপাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান গুলো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে এমন ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ করতে সহায়তা করে। তেজপাতা গুলি মূলত মেথিসিল্লিন প্রতিরোধী স্টাফিলোকাক্কাস এরিয়াসের মত জীব গুলি ধ্বংসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে শ্বাসকষ্টজনিত যেকোনো সমস্যা কম করতে এগুলি সহায়তা করে। (2)

৩)  দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় তেজপাতার ভূমিকা :

দাঁতে ব্যথা, পোকার সমস্যা, ক্ষয় কিংবা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এ ধরনের সমস্যা গুলি নিরাময়ের ক্ষেত্রে তেজপাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। তেজপাতার মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যযুক্ত উপাদানগুলি থাকার কারণে এটি দাঁতের যেকোন সংক্রমনের বিরুদ্ধে চিকিৎসা করতে সহায়তা করে। যার ফলে দাঁতের ব্যথার সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় আমরা তেজপাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতে ব্যথার সমস্যা কম হয় এবং দাঁতকে সংক্রমণ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

৪) ক্যান্সার নিরাময়ে তেজ পাতার ব্যবহার :

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, মানবদেহে ক্যান্সার কোষের লাইনগুলোতে তেজপাতার মধ্যে থাকা উপাদান গুলি ভালো প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে এটি অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান হিসেবে পরিচিত। তেজপাতার মধ্যে থাকা প্রধান যৌগ সিনিয়োল ব্লাড ক্যান্সারের সমস্যা কম করতে এবং লিউকোমিয়ার জীবাণু ধ্বংস করতে সহায়তা করে। (3)

এছাড়াও স্তন ক্যান্সার থেরাপির ক্ষেত্রেও তেজপাতা কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা স্তন ক্যান্সারের সমস্যায় ভুগছে তেজ পাতা স্তন ক্যানসারের  কোষকে ধ্বংস করতে সহায়তা করে। অস্ট্রেলিয়ায় একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যে সমস্ত খাদ্য গুলিতে তেজপাতা ব্যবহার করা হয় সেগুলি গ্রহণ করার ফলে কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক কম হয়। তাই ক্যান্সার বিরোধী উপাদান হিসেবে তেজপাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে ।  (4) (5)

৫) প্রদাহ নিরাময়ে তেজ পাতার ভূমিকা :

অস্ট্রেলিয়ায় একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, তেজপাতার মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান গুলি কক্স ইলেভেন এনজাইমের ক্রিয়া-কলাপ কে বাধা দেয়। মূলত এই কক্স ইলেভেন যে কোনো প্রদাহ কে বাড়িয়ে তুলতে উৎসাহিত করে। তেজপাতার মধ্যে রয়েছে  সেসকিউটারপিন ল্যাকটোন, যা নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদনকে বাড়িয়ে প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নাইট্রিক অক্সাইডের প্রতিরোধক উপাদানগুলি যে কোনো প্রদাহ জনিত রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তেজপাতার মধ্যে অন্যতম একটি বিশেষ যৌগ সিনোয়েল রয়েছে, যা প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। যদিও তেজপাতা একটি অন্যতম অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এরমধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান গুলির সক্রিয়তার কারণে যে কোন প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তেজপাতা সহায়তা করে। (6)

৬) ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করতে তেজ পাতার ব্যবহার :

তেজপাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উপাদানগুলি ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। যেকোনো ধরনের ক্যান্ডিদা সংক্রমনের বিরুদ্ধে এগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। তেজপাতার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি ক্যান্ডিডা সংযুক্তি কম করতে সহায়তা করে। যার ফলে যেখানে ছত্রাকের সংক্রমণ রয়েছে সেই সমস্ত জায়গায় তেজপাতা ব্যবহার সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে। তবে খাদ্যতালিকায় তেজপাতা ব্যবহার করলে তার যে পুষ্টিগুণ খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে যায় সেক্ষেত্রে ভেতর থেকে শরীরের যেকোনো অংশে ছত্রাক সংক্রমণের সমস্যা কম হয়। (7)

৭) ক্ষত নিরাময়ে তেজ পাতার ভূমিকা :

ইঁদুরের ওপর কড়া গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, তেজপাতা ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। যে কোনো ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রে তেজপাতার মতন উপকারী ঔষধী আর হতে পারেনা। যে কারণে ক্ষত নিরাময়ের ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে তেজ পাতার নির্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ক্ষত জায়গায় যদি তেজ পাতা বেটে লাগানো যায় সে ক্ষেত্রেও নিরাময় পাওয়া যেতে পারে। (8)

৮) ওজন কম করতে তেজ পাতার ব্যবহার :

তেজপাতার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি খাবার ইচ্ছাকে কম করতে সহায়তা করে, যার ফলে শরীরের ওজন হ্রাস পায়। যদিও তেজপাতা গ্রহণের ফলে ওজন কম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে, তবে তেজপাতার মধ্যে যে উপাদান গুলি রয়েছে সেগুলি ক্ষুধার ইচ্ছা কম করতে সহায়তা করে, যার ফলে শরীরের বাড়তি ওজন কম হয়।

৯) কিডনির সমস্যা নিরাময়ে তেজপাতার ব্যবহার :

২০১৪ সালে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, তেজপাতা কিডনিতে পাথরের সম্ভাবনাকে কম করতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, অন্যান্য আয়ুর্বেদিক ঔষধ এর পাশাপাশি তেজপাতা শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ কমতে পারে। যার ফলে এটি কিডনির যেকোনো সমস্যা কম করতে সহায়তা করে। এছাড়াও কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রতিরোধ করতে পারে। এর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম করতেও তেজপাতা সহায়তা করে থাকে।

১০) কোলেস্টেরল কম করতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় তেজপাতার ব্যবহার :

তেজপাতা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে এইচ ডি এল অর্থাৎ ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কে নিয়ন্ত্রণ করে হৃদযন্ত্র কে সুরক্ষিত রাখতেও এটি সহায়তা করে। তেজপাতার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের সক্রিয়তা কে বাড়িয়ে তোলে, ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ এবং ভালো থাকে। (9)

১১) ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় তেজপাতার ভূমিকা :

তেজপাতা ত্বকের যে কোন ধরনের সমস্যা দূর করে ত্বকের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ত্বক থেকে ব্রণ ও ফুসকুড়ি এগুলো দূর করতে এবং ত্বকের চুলকানি রোধ করতে, ত্বকের জ্বালাভাব থেকে মুক্তি দিতে তেজপাতা সহায়তা করে। যার ফলে ত্বকের যে কোন ধরনের সমস্যায় তেজপাতা ব্যবহার করা হয়। (10)

১২) চুল পরিচর্যায় তেজ পাতার ব্যবহার :

প্রাচীন যুগ থেকেই চুলের যেকোন সমস্যা, যেমন চুল পড়া, খুশকির মতন সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে তেজপাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। তেজপাতা মূলত চুলের ভাঙ্গন এবং চুলে খুশকির সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, তেজপাতা গুলি মাথার চুল কে শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও তেজ পাতার নির্যাস ব্যবহার করলে মাথার উকুনের সমস্যা দূর হয়। যদিও এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলছে। তবে তেজপাতার ব্যবহার থেকে আমরা চুলের বহু সমস্যার সমাধান করতে পারি।

তেজপাতার পুষ্টিমূল্য :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, যে এক টেবিল-চামচ ভাঙ্গা তেজপাতার মধ্যে রয়েছে –

শক্তি – ৬৩ ক্যালোরি

কার্বোহাইড্রেট – ৩৫ গ্রাম

প্রোটিন – ১৩৭ গ্রাম

ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ – ৪৭৩৩ গ্রাম। (11)

কিভাবে তেজপাতা ব্যবহার করা হয়?

তেজ পাতা গাছ থেকে নামিয়ে নিয়ে রোদে শুকিয়ে নিয়ে রান্নায় সরাসরি এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে রান্না হয়ে যাওয়ার পর খাবার সময় তেজপাতা টা ফেলে দিতে হয়। এই পাতাটি খেতে নেই। মূলত রান্নায় স্বাদ এবং গন্ধ বৃদ্ধির জন্যই তেজপাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই রান্না হয়ে গেলে পরে এই পাতা রান্না থেকে তুলে নিয়ে ফেলে দিতে হয়।

তেজপাতা কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়?

তেজপাতা গাছ থেকে সবুজ পাতাগুলি নামিয়ে নিয়ে রোদে শুকিয়ে যেকোনো কৌটোয় ভরে বহুদিন এগুলি সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন মাঝে মাঝে একটু রোদে দেবেন, না হলে এতে পোকা হয়ে যেতে পারে। যদি সঠিকভাবে রোদে দিয়ে রাখতে পারেন তাহলে বহুদিনে পাতাগুলি সংরক্ষিত থাকবে।

তেজপাতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

আমরা প্রত্যেকেই জানি যে কোনও খাদ্য বস্তুই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এর কোন সমস্যা দেখা দেয় না। তবে এর গ্রহনের মাত্রা যখন বেড়ে যায় তখন তা শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে তেজপাতা এর ব্যতিক্রম নয়। যদি প্রতিদিন তেজপাতা নির্দিষ্ট পরিমাণে খাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ, কিন্তু এই পাতার অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়ে গেলে এগুলি শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান, অস্ত্রোপচারের সময় কিংবা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত তেজ পাতার ব্যবহার করার ফলে কারো কারো শরীরে এলার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাহলে জেনে নিন কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তেজপাতার অত্যধিক ব্যবহারে দেখা যেতে পারে –

১) গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সমস্যা –

গর্ভকালীন অবস্থায় এবং প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে তেজপাতা খাবার সময় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। তবে এটি গ্রহণ করার আগে নিজের এবং সন্তানের সুরক্ষার কথা ভেবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গ্রহণ করা উচিত।

২) রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে –

শরীরে গ্লুকোজ বিপাকের ক্ষেত্রে তেজপাতা উপকারী ভূমিকা গ্রহণ করে। কিন্তু এটি রক্তে শর্করার ওষুধের সাথে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা যারা উচ্চ রক্ত শর্করার জন্য ওষুধ খাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে তেজপাতা গ্রহণ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অনেক সময় ওষুধের সাথে তেজপাতা বিক্রিয়া করতে পারে, তাই আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।

৩) অপারেশনের সময় সম্ভাব্য সমস্যা –

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, তেজপাতা যেকোনো সার্জারির সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। মূলত এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কে ধীর গতির করে ফেলে। তাই যদি আপনার কোনও অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা থাকে তার কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে থেকে তেজ পাতার ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

আজকের নিবন্ধ থেকে আমরা তেজপাতার বিভিন্ন সুবিধা গুলি সম্পর্কে জানলাম। বহু শতাব্দী ধরে তেজপাতা আমাদের রান্নায় স্বাদ এবং গন্ধ তৈরীর জন্য ব্যবহার করে আসছে। আজকে নিবন্ধ থেকে আমরা জানলাম তেজপাতা কেবলমাত্র সুগন্ধি নয়, স্বাস্থ্যকরও বটে। এছাড়াও এর বিভিন্ন উপকারী বৈশিষ্ট্যগুলো জানলাম। এছাড়া তেজপাতার মধ্যে কি কি পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে সেগুলো আমরা জেনে নিয়েছি। এছাড়াও এটির অত্যধিক ব্যবহারের ফলে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তাও আমরা জেনেছি। তাহলে আজকে থেকে আপনার খাদ্য তালিকায় তেজপাতা গ্রহণ শুরু করুন আর অবশ্যই যথাযথ পরিমাণে গ্রহণ করবেন। তেজপাতা গ্রহণের ফলে আপনার যদি কোন রকম অসুবিধা হয় সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এবং আমাদের এই নিবন্ধ আপনার কতটা সহায়ক কি হলো সেটি আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

প্রায়শঃ জিজ্ঞাস্য :

তেজপাতা চিবিয়ে খাওয়া কি ক্ষতিকর?

তেজ পাতা চিবিয়ে খাওয়া বিপদজনক নয়, কারণ এতে টক্সিন থাকে না। তবে রান্না করার পর এটি আরো শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে এটি হজমে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে কিংবা গলায় আটকে দম বন্ধ হতে পারে।

তেজপাতা কি পোষা প্রাণীদের জন্য খারাপ?

প্রাণীদের ক্ষতি করতে পারে, মূলত দম বন্ধ হয়ে গেলে। তাই পোষা প্রাণীর খাদ্য তালিকা থেকে তেজপাতা দূরে রাখুন। এটি গলায় আটকে গিয়ে দমবন্ধ হয়ে বিপদ ঘটতে পারে।

তেজপাতা পোড়ালে কী হয়?

তেজপাতা পোড়ালে যেকোনো ধরনের মানসিক চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তেজপাতার ধোঁয়ায় রয়েছে লিনলুলের মত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা উদ্বেগ কম করতে সহায়তা করে। যদিও এর পিছনে কোন বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই।

তেজপাতা অন্য কিভাবে পাওয়া যায়?

তেজপাতা চা, তেল, ক্যাপসুল এবং গুঁড়ো আকারে পাওয়া যায়।

তেজপাতা কে অন্যান্য ভাষায় কি বলা হয়?

স্প্যানিশ ভাষায় তেজপাতাকে বলা হয়  হোজা ডি লরেল, ফরাসি ভাষায় বলা হয় ফেউইল ডি লরিয়ার, হিন্দীতে বলা হয় তেজ পাত্তা।

তেজপাতার চা কি রক্তচাপকে কমাতে পারে?

কিছু ক্ষেত্রে জানা যায় যে তেজপাতার চা  রক্তচাপকে কম করে। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ গবেষণার উত্তর পাওয়া যায়নি।

তেজপাতা কি মূত্রবর্ধক উপাদান?

হ্যা, তেজপাতা হলো একটি মূত্রবর্ধক উপাদান। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ গুলিকে ঘাম এবং মূত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে সহায়তা করে।

তেজপাতা কি ব্রণের সমস্যাকে দূরে রাখে?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ব্রন ফুসকুড়ির যে জীবানুগুলি ত্বকের ওপর বাসা বাঁধে সেগুলিকে কম করতে তেজপাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। তাই এগুলোর বংশবৃদ্ধিকেও দূরে রাখে।

তেজপাতা কি ঘুমের সহায়তা করে?

তেজপাতার মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ঘুমকে যথাযথ পরিমাণে করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব বজায় রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে তেজপাতা গ্রহণের ফলে যথাযথ পরিমাণে ঘুম হয়।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কিভাবে তেজপাতা ব্যবহার করতে পারেন?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা তেজপাতা গুঁড়ো করে ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা স্যুপ ও তরকারির মধ্যে গোটা পাতা দিয়ে এর স্বাদ এবং সুগন্ধ গ্রহণ করতে পারেন।

Sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.