ঠোঁটের উপর আবাঞ্ছিত লোম? দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে | How to Remove Upper Lip Hair at Home in Bengali

by

ঠোঁটের উপরে বড় বড় লোম! ইস, কী বিচ্ছিরি ব্যাপার বলুন তো। পুরুষদের দাঁড়ি, গোঁফ থাকে ঠিক আছে। কিন্তু নারীর মুখে দাঁড়ি, গোঁফ খুবই লজ্জার ব্যাপার। অনেক মহিলারা ঠোঁটের উপরে অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা ভোগেন। সাধারণত হরমোন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ঠোঁটের উপরে লোম দেখা যায়। কারও কারও গাল, চিবুক এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও লোম দেখা দেয়। অগত্যা তখন সৌন্দর্য বজায় রাখতে ভরসা হয়ে ওঠে হেয়ার রিমুভাল ক্রিম বা অন্য কোনও বিউটি ট্রিটমেন্ট। কিন্তু এই ট্রিটমেন্টগুলো যেমন যন্ত্রণাদায়ক তেমনই ব্যয়বহুল। কিছু ক্ষেত্রে ট্রিটমেন্টগুলো থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। গোছা গোছা টাকা খরচ করে, যন্ত্রণা সহ্য করেও স্বস্ত্বি কেবলমাত্র কয়েকদিনের জন্য। দু’দিন যেতে না যেতেই লোম গজিয়ে আবার যে কে সেই অবস্থা। তাহলে এখন প্রশ্ন এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় কী?

আমাদের আজকের প্রতিবেদনে ঠোঁটের উপরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় দেওয়া হল। যেগুলির সাহায্যে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই খুব সহজেই লোম দূর করতে পারবেন। তাহলে আর দেরি কেন, আসুন জেনে নিন সেগুলি কী কী।

মহিলাদের ঠোঁটের উপরে অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা কেন হয়?

আপার লিপের লোম দূর করার পদ্ধতি তো জানবেন। কিন্তু তার আগে, ঠোঁটের উপরের অবাঞ্ছিত লোম কী কারণে হয় সেটা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মহিলাদের ঠোঁটের উপর লোমের বৃদ্ধির নানা কারণ থাকতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন (মেনোপজের পর)। কারও ক্ষেত্রে এটি জিনগত সমস্যা হতে পারে। আবার উভয় কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ঠোঁটের উপরের লোম বৃদ্ধির সমস্যাটি ৫ থেকে ১০ শতাংশ মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। যদিও এই মুহূর্তে ঠোঁটের উপর কেন লোম হয় তা স্পষ্ট করে বলা মুশকিল, তবে এই বিষয়ে গবেষণা চলছে (1)

ঠোঁটের উপরে লোম তোলার ঘরোয়া উপায়

আপনি যদি ঠোঁটের উপরের লোম তোলার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চাহলে, তাহলে ঘরোয়া প্রতিকার অবলম্বন করতে পারেন। আপার লিপের লোম তোলার ঘরোয়া উপায়গুলি জেনে নিন।

১. দই, বেসন এবং হলুদ

সামগ্রী :

  • এক চামচ বেসন
  • এক চামচ দই
  • সামান্য হলুদ

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • একটি বাটিতে দই, বেসন এবং হলুদ নিন।
  • সবগুলিকে একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • এরপর মিশ্রণটি ঠোঁটের উপরের অংশে হালকা হাতে মালিশ করে নিন।
  • ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ধীরে ধীরে রগড়ে নিন।
  • তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

যতক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে লোম না যাচ্ছে এটি ব্যবহার করুন। আপনি এই মিশ্রণটি সপ্তাহে দু’বার ত্বকের উপর লাগাতে পারেন।

উপকারিতা কী :

দই, বেসন এবং হলুদ একসঙ্গে মেশালে ঘন মিশ্রণ তৈরি হয়। এই মিশ্রণটি ঠোঁটের উপরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে সহায়ক হতে পারে। এটি রোমকূপের মধ্যে জমে থাকা ময়লা বের করে আনে। এছাড়াও এটি ব্যবহারে ঠোঁটের উপরের লোমগুলির গোড়া আলগা হয়ে যায়। দই ত্বকের জন্য উপকারী। এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায় (2)

অন্যদিকে বেসন ত্বকের সমস্যার জন্য যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি কেবল ত্বককে পরিষ্কার করে না, ত্বকতে এক্সফোলিয়েট করে ট্যানেপ প্রভাবও কম করতে পারে। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বককে পিম্পলসের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে (3)। এছাড়াও হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-সেপটিক গুণ ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন (4)। অনেকের আবার হলুদ ব্যবহার করে ত্বকে এলার্জি হতে পারে, তাই আগে পরীক্ষা করে নিন।

২. হলুদ এবং দুধ

সামগ্রী :

  • এক চামচ হলুদ
  • এক চামচ জল অথবা দুধ

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • হলুদ গুঁড়ো জল অথবা দুধের মধ্যে মিশিয়ে ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন।
  • আধ ঘণ্টা মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন।
  • যখন মিশ্রণটি শুকিয়ে যাবে, হাত দিয়ে রগড়ে তুলে ফেলুন অথবা জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

এটি পদ্ধতি কয়েক সপ্তাহ ধরে দু’দিন অন্তর অন্তর ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

হলুদ দুধ কেবলমাত্র স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, এটি ত্বকের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঠোঁটের উপরের লোম তুলতে এটি দারুণ কার্যকরী। হলুদ গুঁড়ো রূপচর্চায় প্রায়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হলুদ আপনার ত্বককে পরিষ্কার করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়াও ত্বক সম্পর্কিত নানা সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে (5)। একইসঙ্গে, দুগ্ধজাত পণ্যগুলিতে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে, যা ত্বককে স্বাস্থ্যকর করতে সহায়তা করে এবং দুধ তাদের মধ্যে অন্যতম (6)। তাই ত্বকের যত্ন নিতে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে দুধ প্রায়শই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এমনকী নানা ক্রিম এবং কসমেটিক্সের মধ্যে দুধের ব্যবহার করা হয়ে থাকে (7)

সাবধানতা : দুগ্ধজাত পণ্যে যদি আপনার অ্যালার্জি থাকে তাহলে দুধ ব্যবহার করবেন না।

৩. লেবু ও চিনি

সামগ্রী :

  • একটি লেবু
  • এক চামচ চিনি

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • ঠোঁটের উপরের লোম দূর করতে এই উপায় খুবই সহজ। এর জন্য প্রথমে লেবু থেকে রস বের করে নিন।
  • এরপর লেবুর রসে চিনি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • ঠোঁটের উপরে মিশ্রণটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর্যন্ত রেখে দিন তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

দু’দিন অন্তর অন্তর এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

ঠোঁটের উপরের লোম দূর করতে এটি খুবই কার্যকরী প্রতিকার হতে পারে। লেবুর রসে ব্লিচিং গুণ রয়েছে, যা ঠোঁটের উপরের লোমের রং হালকা করতে সাহায্য করে (8)। একইসঙ্গে চিনির মধ্যে এক্সফোলিয়েট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা লোমের গোড়া আলগা করে এবং ত্বক থেকে লোম দূর করতে সাহায্য করে (9)

দ্রষ্টব্য : মনে রাখবেন, এই মিশ্রণটি খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। নয়তো আপনার মুখের চামড়া উঠে যেতে পারে। একইসঙ্গে, এই পদ্ধতিটি ড্রাই স্কিনের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।

৪. ডিমের সাদা অংশ

সামগ্রী :

  • একটি ডিমের সাদা অংশ
  • এক চামচ কর্ন ফ্ল্যাওয়ার
  • এক চামচ চিনি

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • ডিমের সাদা অংশের মধ্যে কর্ন ফ্ল্যাওয়ার এবং চিনি মেশান।
  • উপকরণগুলি একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • এরপর পেস্টটি আপনার ঠোঁটের উপরের অংশে লাগিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটি লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত শুকানোর জন্য রেখে দিন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে একবার অবশ্যই ব্যবহার করে দেখুন। এক মাসের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

উপকারিতা কী :

ঠোঁটের উপরের লোম তুলতে ডিমের সাদা অংশ খুব উপকারী হতে পারে। এটি আপনার ত্বককে শিথিল করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এর ব্যবহারের ফলে উপরের ঠোঁটের লোমের রং হালকা হতে পারে। ডিমের মধ্যে রয়েছে লুটেইন এবং জ্যাক্সানথিন যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে (10)

৫. সুগার ওয়েক্সিং

সামগ্রী :

  • চারটি ক্যামোমিল টি ব্যাগ
  • দুই বড় চামচ চিনি
  • ২ বড় চামচ লেবুর রস
  • জল
  • পপস্টিকল স্টিক অথবা আইসক্রিম স্টিক

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • ক্যামোমাইল টি ব্যাগগুলি নিন এবং একটি সসপ্যানে ঢালুন। তাতে সামান্য জল দিয়ে ফুটতে দিন। এক এটি ফুটে গেলে গ্যাস কম করে দিন। টি ব্যাগগুলি কমপক্ষে ৩০ মিনিট জলে ফেলে রাখুন। এরপর টি ব্যাগ ফেলে দিন এবং অর্ধেক কাপ চা ঢেলে নিন।
  • এবার সসপ্যানে এক কাপ জল ঢালুন এবং আগে থেকে তৈরি করে রাখা ক্যামোমাইল চায়ে সামান্য জল মিশিয়ে সসপ্যানের মধ্যে ঢেলে দিন।
  • তাতে চিনি এবং লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটি যতক্ষণ না ফুটতে শুরু করছে ততক্ষণ গরম করুন। তারপর আরও কয়েক মিনিট পর্যন্ত ফোটান। মিশ্রণটির রং গাঢ় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • এবার গ্যাস বন্ধ করে সসপ্যানটি নামিয়ে নিন এবং একটি পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে নিন।
  • এবার এই সুগার ওয়াক্স ঠান্ডা করে নিন। এটি ত্বকের উপর গরম গরম লাগিয়ে নিন।
  • পপসিকল স্টিক বা আইসক্রিং স্টিকের সাহায্যে ঠোঁটের উপরে লাগান।
  • কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখার পর ওয়াক্সিং স্ট্রিপ দিয়ে টেনে লোম তুলে ফেলুন। তবে খেয়াল রাখুন ওয়াক্সিং স্ট্রিপ চুলের বিপরীত দিকে টানছেন কিনা।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

লোমের বৃদ্ধির হারের উপর নির্ভর করে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। ওয়াক্সিং করার আগে লোম পুরোপুরি বাড়তে দিন, যাতে লোম একেবারে গোড়া থেকে উঠে আসে।

উপকারিতা কী :

অনেকে আছেন যারা পার্লারে না গিয়ে ঘরেই ওয়াক্সিং করতে পছন্দ করেন। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে সুগার ওয়াক্সিং বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে (11)। তবে এটি ব্যবহারের আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নিশ্চিত হয়ে নিন। তাতে আপনি বুঝতে পারবেন এটি আপনার ত্বকের জন্য উপকারী কিনা (12)। একইসঙ্গে ক্যামোমাইল টি ব্যাগ ত্বকে আরাম দিতে পারে। এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে, যা ওয়াক্সিংয়ের পর ত্বকের জ্বালা এবং ফোলাভাব কম করতে সাহায্য করে। এটি একটি ওষুধের মতো কাজ করে (13)

নোট : আপনি যদি প্রথমবার ওয়াক্সিং করাচ্ছেন তাহলে একবার বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়ে নিন। কারণ সামান্য ভুলের আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

৬. মধু এবং লেবু

সামগ্রী :

  • অর্ধেক চামচ লেবুর রস
  • এক বড় চামচ মধু
  • গরম জল
  • ওয়াশক্লথ

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • মধু এবং লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন।
  • ১৫ থেকে ২০ মিনিট ত্বকের উপর লাগিয়ে রাখুন।
  • এবার হালকা গরম জলে পরিষ্কার একটি কাপড় ভিজিয়ে নিন।
  • কাপড় নিংড়ে নিয়ে মুখের উপর থেকে মধু এবং লেবুর মিশ্রণটি পরিষ্কার করে নিন।
  • এরপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এটি ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

আপার লিপের লোম পরিষ্কার করতে এটি অন্যতম একটি ঘরোয়া প্রতিকার। লেবুর মধ্যে ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে (4), যা চুলকে ব্লিচ করতে পারে। এটি চুলের রং হালকা করে তোলে, ফলে লোম খুব বেশি নজরে পড়ে না। একইসঙ্গে মধু আঠালো প্রকৃতির হয়, যার কারণে এটি ত্বকে লেগে থাকে এবং সহজে লোম দূর করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, মধু ত্বকের জন্যেও উপকারী। এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। এর জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য উৎপাদনে মধু ব্যবহার করা হয় (14)

৭. আলুর রস

সামগ্রী :

  • দুই বড় চামচ মুসুর ডাল
  • এক বড় চামচ আলুর রস
  • এক চামচ মধু
  • এক বড় চামচ লেবুর রস
  • জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • রাতে ডাল ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিন।
  • সকালে জল থেকে ডাল ছেঁকে তাতে আলু এবং লেবুর রস মিসিয়ে পিষে নিন।
  • মিশ্রণটির মধ্যে মধু যোগ করুন।
  • মিশ্রণটি আপনার ঠোঁটের উপরের লোমের উপর লাগিয়ে নিন এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।
  • শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • তারপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনি চাইলে মুখের অন্যান্য জায়গাতেও লাগাতে পারেন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

সপ্তাহে এক-দু’বার এই পেস্টটি ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

আলু এবং লেবুর রসের মধ্যে ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার কারণে উপরের ঠোঁটের চুলের রং পরিবর্তন হয় এবং সেগুলি দৃশ্যমান হয় না (15)। আপনি এই সহজ পদ্ধতিটি চাইলে ব্যবহার করতেই পারেন, তবে আগে প্যাচ টেস্ট করতে ভুলবেন না। সবার ত্বক এক নয়। এটি সকলের ত্বকে স্যুট করবে তেমনটা কিন্তু নয়।

৮. কর্ন ফ্ল্যাওয়ার এবং দুধ

সামগ্রী :

  • এক চামচ কর্ন ফ্ল্যাওয়ার
  • দুই চামচ দুধ

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • দুধ এবং কর্ন ফ্ল্যাওয়ার একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন এবং এই পেস্টটি ঠোঁটের উপরের লোমের উপর লাগিয়ে নিন।
  • মিশ্রণ লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে ধীরে ধীরে আলতো হাতে পরিষ্কার করে নিন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

এই প্রক্রিয়াটি আপনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

  • এই পেস্টটি ত্বকে ভালোভাবে লেগে থাকবে এবং আপনি মিশ্রণটি পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে লোম গুলোও উটে আসবে।

দ্রষ্টব্য : কর্ন ফ্ল্যাওয়ার ত্বকের জন্য উপকারী কিনা, তার কোনও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতএব প্যাচ টেস্ট করে তবেই এটি ব্যবহার করুন।

৯. ওটমিল

সামগ্রী :

  • অর্ধেক চামচ ওটমিল
  • অর্ধেক কলা

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • প্রথমে কলা চটকে নিন।
  • তারপর তাতে ওটমিল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • এরপর পেস্টটি আপনার আপার লিপের লোমের উপর লাগিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে দিন।
  • তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

ওটমিল ত্বক সম্পর্কিত নানা সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে, যা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে (16)। শুধু তাই নয়, এটি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে। এছাড়া এটি কেবল ত্বককে পরিষ্কার করে না, অবাঞ্ছিত লোমও দূর করতে পারে (17)

১০. হলুদ

সামগ্রী :

  • এক চামচ হলুদ
  • সামান্য জল

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • হলুদে জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • এবার পেস্টটি আপনার ঠোঁটের উপর লাগিয়ে নিন।
  • আধ ঘণ্টা মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন।
  • পেস্টটি শুকিয়ে গেলে, আলতো হাতে রগড়ে তুলে ফেলুন। তারপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে পারেন। কিছুদিনের মধ্যে এর প্রভাব লক্ষ্য করতে পারবেন।

উপকারিতা কী :

হলুদে কেবলমাত্র অ্যান্টি-সেপটিক গুণ থাকে না, এটি ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ায় (4)। তাই ঠোঁটের উপরের লোম দূর করতে সহজ এই উপায় ব্যবহার করতে পারেন। হলুদ ত্বকে উপর অবাঞ্ছিত লোম সহজেই দূর করতে পারবে।

১১. আটা

সামগ্রী :

  • এক চামচ আটা
  • এক চামচ দুধ
  • সামান্য হলুদ

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • সমস্ত উপাদানগুলি একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন।
  • মিশ্রণটি ঠোঁটের উপর লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • শুকিয়ে গেলে ধীরে ধীরে মুছে ফেলুন।
  • তারপর জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

ভালো ফল পেতে চারদিনে অন্তর একবার করে এটি ব্যবহার করুন।

উপকারিতা কী :

ঠোঁটের উপরের লোম তুলতে এটি অন্যতম সেরা উপায়। এটি লোমের গোড়া আলগা করে দেয় এবং মাস্কটি তোলার সঙ্গে সঙ্গে লোমগুলোও উঠে আসে। এতে উপস্থিত ভিটামিন ত্বককে সুস্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করতে পারে (18)

১২. কাঁচা পেঁপে এবং হলুদ

সামগ্রী :

  • কাঁচা পেঁপের কয়েক টুকরো
  • হলুদ

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

  • কাঁচা পেঁপের খোসা সমেত কয়েক টুকরো নিন। তাতে প্রয়োজনমতো জল দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • এবার তাতে সামান্য হলুদ মেশান।
  • এরপর পেস্টটি আপার লিপের উপর লাগিয়ে নিন।
  • পেস্টটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
  • পেস্টটি শুকিয়ে গেলে স্ক্রাব করে নিন।
  • স্ক্রাব করার সঙ্গে সঙ্গে লোম উঠে আসবে।
  • সব শেষে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কখন কখন ব্যবহার করবেন :

সপ্তাহে একবার এটি ব্যবহার করতে পারেন।

উপকারিতা কী :

পেঁপে কেবল পিম্পলসের সমস্যা কমায় না, এর মধ্যে ব্লিচিং গুণও রয়েছে। যা ত্বকের উপর অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে সাহায্য করতে পারে (19)। এছাড়াও এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে পারে। একইসঙ্গে হলুদ ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে (5)

দ্রষ্টব্য : ঠোঁটের উপরের লোম দূর করতে কখনও শেভ করবেন না। শেভ করলে লোমগুলি গোড়া থেকে নয় ত্বকের উপর থেকে সরানো যায়। পরে লোমগুলি আরও মোটা এবং পুরু হয়ে বের হয়, যা মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে। তাড়াতাড়ি লোম দূর করতে সুগার ওয়াক্সিং ব্যবহার করতে পারেন। কারও যদি লোম খুব ঘন হয় এবং উপরিউক্ত পদ্ধতি কাজে না আসে তাহলে চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

এছাড়াও আপনি যদি প্রথম বার আপার লিপের লোম দূর করার জন্য ঘরে ওয়াক্সিং করতে চলেছেন, তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে আপনি সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কিনা। মনে রাখবেন সামান্য ভুল আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাতে হীতে বিপরীত হতে পারে।

আপার লিপের লোম দূর করার আরও কিছু টিপস

  • আপনি প্লাকার ব্যবহার করতে পারেন।
  • আজকাল অনেক নতুন জিনিস যেমন – এপিলেটর বাজারে এবং অনলাইনেও পাওয়া যায়। আপনি তার সাহায্যে আপনার ঠোঁটের উপরের লোম দূর করতে পারেন।
  • থ্রেডিংয়ের সাহায্যেও লোম দূর করতে পারেন।
  • চর্ম বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়ে লেজার হেয়ার রিমুভালেও ব্যবহার করতে পারেন।
  • আপনি চাইলে ক্রিম ব্লিচও ব্যবহার করতে পারেন।

মহিলাদের ঠোঁটের উপর লোম যে খুব বেমানান দেখায়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এর কারণে বেশিরভাগ মহিলাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে কোনও উৎসব, অনুষ্ঠানে সবার সামনে যেতে ইচ্ছে করে না। আমাদের আজকের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য নিশ্চয় এবার আপনার অনেক উপকারে লাগবে। আশা করি উপরে দেওয়া ঘরোয়া প্রতিকারগুলি আপনার ঠোঁটের উপরের লোম দূর করতে কার্যকর হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ঠোঁটের উপরের লোম প্লাক করা কী খারাপ?

ঠোঁটের উপর যদি সামান্য কিছু লোম দেখা দেয়, তাহলে ওয়াক্সিংয়ের মাধ্যমে সেগুলি দূর করতে পারেন। কিন্তু যদি আপনার ত্বক খুব সংবেদনশীল হয় তাহলে এটি এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজনে ফেসিয়াল করাতে পারেন।

প্লাক করার ফলে কী লোম আরও ঘন হয়ে বের হয়?

প্লাক করলেই যে ঠোঁটের উপরের লোম আরও ঘন বের হয় তা নয়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও এটি হতে পারে।

ঠোঁটের উপরের লোম কীভাবে চিরকালের জন্য দূর করা যায়?

ঠোঁটের উরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে নিবন্ধে দেওয়া ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ব্যবহার করতে পারেন। যদি তাতেও কোনও ফল না পান তাহলে চর্চ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

19 Sources

Was this article helpful?
scorecardresearch