বিভিন্ন প্রকার রোগ মুক্তিতে তুলনাহীন তিসি – জানুন ব্যবহার, গুণাগুণ ও অপকারিতা | All About Flax Seeds (Alsi) in Bengali

by

তিসির বীজ বা ফ্ল্যাক্স সিড, নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? আজ জানব সেই তিসি বীজের কথা। যাকে আলসি বীজও বলা হয়ে থাকে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন কম-বেশী প্রায় সবাই সেই ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি বীজের নাম শুনেছে। অনেকেই আবার এই তিসি বীজকে সাপ্লিমেন্ট বা এনার্জি বার হিসেবে ব্যবহারও করে।

প্রাচীনকাল থেকেই রুপচর্চায়, শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তিসি বীজ ব্যবহার হয়ে আসছে। হেঁশেলের মশলা হিসেবেও তিসির জুড়ি মেলা ভার। প্রতিদিন এক চামচ তিসি বীজ খেলেই শরীর থাকবে চাঙ্গা আর মনমেজাজ থাকবে ফুরফুরে। ছোট-বড় একাধিক রোগব্যাধি কাছে আসার সাহসই পাবে না, এমনই চমৎকার তিসির গুণাগুণ।

তিসি বীজ আসলে কী?

আপনাকে কি আপনার ডায়েটিশিয়ান কিংবা ডাক্তার তিসি বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন? তাহলে জেনে নিন – আসলে কী এই ফ্ল্যাক্স সিড? কোথা থেকে এল এই মহৌষধি বীজ? এর দানায় দানায় কোন কোন জরুরি উপাদান লুকিয়ে রয়েছে?

ভেষজ প্রোটিনের এক দারুণ উৎস হল তিসি যা ৮-৮০ সকলের জন্যই ভীষণভাবে উপকারী। রোজকার ডায়েটে তিসি বীজকে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট হিসেবে রাখলে ফলও মিলবে হাতেনাতে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ এর মতো ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং অনেক কিলো ক্যালোরি শক্তি যা আপনাকে সারাদিন প্রাণবন্ত থাকতে সাহায্য করবে। তবে ক্যালোরি শুনে ঘাবড়ে যাওয়ার কোনও ব্যাপার নেই। বরং নিয়মিত তিসি বীজ খাওয়ার অভ্যাস ওজন কমাতে সাহায্য করবে আপনাকে।

বর্তমানে উন্নত মানের তিসি বীজের চাষ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু তিসি বীজ ব্যবহারের প্রথম নিদর্শন মেলে অতীতে, তাও আদি প্রস্তর যুগে। বাইবেলেও এই ফ্ল্যাক্স সিড বা লিনেন তন্তুর উল্লেখ রয়েছে। এমনকি মিশরে মৃতদেহ কবর দেওয়ার সময় লিনেন কাপড় দিয়ে মৃতদেহকে মুড়ে ফেলা হত যাতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওই দেহ সংরক্ষণ করা যায়। মিশরেই প্রথম এই তিসির চাষ করা হয়। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ এলাকাতেই চাষ করা হয় তিসির। ভারতে বেশিরভাগ উৎপাদন হয় বিহার, ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে ।

তিসি বীজের প্রকারভেদ

তিসি বীজের তেমনভাবে আলাদা প্রকার বিশেষ হয় না। তবে, তিসি বীজ সাধারণত খয়েরি, সোনালী, হলুদ এবং লালচে খয়েরি রঙের হয়ে থাকে। কিছু কিছু রিপোর্টে বলা হয় এই সোনালী তিসি বীজ খয়েরি তিসি বীজের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর। আবার খয়েরি বীজ দেখতে এবং স্বাদে অতুলনীয়।

তিসি বীজের ঔষধি গুণাগুণ

প্রকৃতির ভাণ্ডারে যেসব মহৌষধি লুকিয়ে রয়েছে তিসি হল তাদের মধ্যে অন্যতম। যার দানায় দানায় গুণ লুকিয়ে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার ও অন্যান্য জরুরী উপাদান। এই মহৌষধি বীজ হল একাধিক শারীরিক সমস্যার ঘরোয়া এবং সহজ সমাধান। বহু রোগ প্রতিকারের পাশাপাশি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও রয়েছে এই ছোট্ট একটা বীজের দানায় (1) । রূপচর্চার সাথে সাথে, তিসি বীজের ব্যবহার ওজন বৃদ্ধি রোধ করে, জরুরি পুষ্টি জোগায়, ব্লাড সুগার আর প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে, লিভার, হার্ট সুরক্ষিত রাখে এবং কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে (2)। পাশাপাশি জ্বর-সর্দি-কাশি-শ্বাসকষ্ট এর প্রকোপ কমায়, সর্বোপরি তিসির অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। মেয়েদের জন্য ভীষণ উপকারী এই তিসি বীজ। ঋতুকালীন স্বাস্থ্যচর্চায় তিসির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। পিরিয়ড চলাকালীন বা মোনোপজের সময় হওয়া ব্যথা ও আনুষঙ্গিক সমস্যার প্রতিরোধ এবং প্রতিকার করে এই তিসি বীজ।

তিসি বীজের স্বাস্থ্য উপকারীতা

এবার জেনে নিন রোজকার খাদ্যাভ্যাসে তিসি বীজ রাখলে কোন কোন রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। মুঠো মুঠো ওষুধের পরিবর্তে হাতে তুলে নিন কয়েক চামচ তিসি বীজের গুঁড়ো। তিসি বীজের ব্যবহার খুব সহজেই আপনার জীবনকে করে তুলবে আরো সুস্থ ও সুন্দর।

১. ওজন হ্রাসে সহায়তা করে

তিসি বীজে আছে আছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা মেটাবলিজমের হার বাড়ায় (3) । এটি শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝড়ানোর সাথে সাথে, মেদ জমতেও বাধা দেয়। পেট ভরে খাওয়ার পরেও স্ন্যাক্সের জন্য মন কেমন করে যাদের, তাদের জন্য ভীষণ উপকারী এই তিসি বীজের গুঁড়ো বা তেল। যা অযথা ক্ষুধাভাবকে দূর করে আবার খাবার তাড়াতাড়ি হজম করতেও সাহায্য করে।

কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে অনেক সময়ই আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করি না, ফলে পেটে মেদ জমতে শুরু করে। দেহের গড়ন মোটা না হলেও, পেটে জমে থাকা চর্বির কারণে আপনার দৈহিক গঠনের সৌন্দর্য ম্লান হতে শুরু করে। প্রতিদিন তিসির তেল বা গুঁড়ো খেলে আপনার এই সমস্যার ও সমাধান হবে। তিসি কোষে মেদ শোষণ করতে বাধা প্রদান করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে (4)।

কীভাবে খাবেন?

৩-৪ চামচ তিসি বীজের গুঁড়ো খেলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়বে আপনার। বাজার থেকে কেনা তিসি বীজের গুঁড়ো আপনি জলে মিশিয়ে বা কোনো খাবারের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন। আর যদি গুঁড়ো খেতে মন না চায়, তবে রয়েছে তিসির তেল।

২. উচ্চ রক্তচাপ কমায় ও নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ

হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেসার একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুখ যাতে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং আরো নানারকমের আনুষঙ্গিক শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তিসি বীজ আপনাকে এই সমস্যারও একটা সমাধান দিতে পারে। তিসিতে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখে। রোজকার ডায়েটে আপনি যদি ৩০ গ্রাম তিসি বীজ খাবার পরিকল্পনা করেন, আপনার উচ্চ রক্তচাপ নামতে বেশী সময় লাগবে না। প্রতিদিন দু চামচ তিসি বীজের গুঁড়ো বা তেল খেলে বা তিসি বীজের চা পান করলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দূর হয়।
কীভাবে বানাবেন এই তিসি বীজের চা?

তিসি বলতেই মাথায় আসে তিসি বীজের গুঁড়ো নয় তো তিসির তেল। এছাড়াও তিসি খাওয়ার জন্য রয়েছে এক অভিনব উপায়, তা হল তিসির চা।

প্রথমে একটি পাত্রে দেড় কাপ জল মাঝারি আঁচে গরম করতে হবে। জল ফুটে উঠলে তার মধ্যে ১ চামচ তিসি বীজ দিয়ে আরও মিনিট পাঁচেক ফোটালেই তৈরী হয়ে যাবে তিসির চা। এবার গ্যাস বন্ধ করে, অপেক্ষা করুন কিছুক্ষণ। ঠাণ্ডা হয়ে এলে, এর সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে দেখুন এই অভিনব চা। নিয়মিত দিনে অন্তত এক কাপ করে এই তিসি বীজের চা খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে আপনার উচ্চ রক্তচাপ।

৩. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে

ডায়াবেটিসে ভুগছেন? কিংবা আর কয়েক ধাপ পেরোলেই লাগবে ডায়াবেটিক রোগীর তকমা? রোজকার ডায়েটে আজকেই যোগ করুন তিসি বীজের নাম। কারণ, ব্লাড সুগারের রোগীর খাদ্যতালিকায় সব সময় বেশি ফাইবার, পরিমিত প্রোটিন, ভিটামিন আর লো-ফ্যাট যুক্ত খাবার রাখা উচিত । তিসি বীজে আছে এই সকল গুণই। তিসি তেলে রয়েছে গুড ফ্যাট ওমেগা-৩ আর প্রচুর ক্যালোরি যা আপনাকে শক্তি জোগাবে দিনভর। আবার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের শর্করাকে বেশী ব্যবহার করে ফেলে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এক চামচ তিসি বীজে রয়েছে প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার যা রক্তে শর্করা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব বাড়ে ও না আবার কমেও না। সুগার ফল করার ভয়ও কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীরা প্রতিদিন ৫-১০ গ্রাম তিসি বীজ খেলে তাদের সুগার লেভেল প্রায় ৮-২০ শতাংশ কমে (5)।

৪. হাই-কোলেস্টেরলের সমস্যা কমায়

হাই-কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে তিসি বীজ শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন নিয়মিত ৩ চামচ তিসি বীজ খেলে দেহে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পায়। শরীরে এই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম হলে ওজন বৃদ্ধির সমস্যা বা হৃদরোগের আশঙ্কা কমে।

৫. লিভারের কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে

লিভার যদি তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তবে শরীরে জমে থাকা টক্সিন নিঃস্বরণ হবে না, শরীরেই থেকে যাবে। ফলে শরীরের আনুষঙ্গিক সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একে একে বিকল হয়ে পড়বে। শরীর সুস্থ রাখতে লিভারের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিসি বীজের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লিভার পরিষ্কার ও সচল রাখতে সাহায্য করে এবং কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে।

৬. হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা প্রতিরোধ করে

হৃৎপিণ্ড সুরক্ষিত রাখতে হলে শুরু করুন তিসি বীজ খাওয়ার অভ্যাস। তিসি বীজে রয়েছে কিছু অনন্য উপাদান – “আলফা লিনোলিক অ্যাসিড” এবং আর্জিনিন ও গ্লুটামিনের মতো অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। তিসি আমাদের হৃদপিণ্ডকে সুস্থ ও সবল রাখতে কাজ করে। হার্টে কোনো প্রকার ব্লক বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন রোধ করতে সাহায্য করে (6)।

৭. সর্দি-কাশির চিকিৎসায়

ঋতু পরিবর্তনের সময় আচমকা ঠান্ডা লেগে সামান্য সর্দি জ্বর হলে মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ার আগে আশ্রয় নিন ঘরোয়া এই টোটকার। তিসি বীজে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড এবং গ্লুটেমিক অ্যাসিড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে খুব সহজে ঠান্ডা লেগে সর্দিজ্বর হয় না। সর্দি-কাশি সমস্যার উপশমেও লাভজনক তিসির তেল বা গুঁড়ো।

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধক

তিসিতে উপস্থিত ‘ফাইটো অ্যাস্ট্রজেনিক লিগ্নান্স’ নামের একধরণের পলিফেনল উপাদান যা অয়ান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাধা দেয় (7)। এবং ওমেগা-৩ ফ্যাট শরীরে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। তিসি বীজ বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার যেমন ইউটেরাইন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, স্তনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তিসিতে আছে এক উদ্দিজ্জ ইস্ট্রোজেন – ফাইটোইস্ট্রোজেন যা মেনোপজ হয়ে যাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

১০. গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যা কমায়

তিসি বীজের নিয়মিত সেবনে পেটে জ্বালা বা গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যা কম হতে পারে। তিসির তেল নিজেই একটি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। এছাড়া এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ এর মত ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, এ, বি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টকে স্বাভাবিক করে তোলে এবং গ্যাস্ট্রাইটিসের উপসর্গগুলিকে নির্মূল করে (8)।

১১. হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

তিসিতে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকার কারণে শরীরে পাচক রসের ক্ষরণ বাড়তে শুরু করে। ফলে হজম শক্তির উন্নতি ঘটে, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নির্মুল হতে সাহায্য করে। আবার এতে উপস্থিত এই মোট ফাইবারের ২০-৪০ শতাংশ হল মিউসিলেজ জাতীয় সলিউবল ফাইবার যা শরীরের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটিরিয়ার মাত্রা ঠিক রাখে ও আমাদের হজমশক্তি বাড়ায়। পেটের যে কোন রোগের চিকিৎসায় তিসি বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে (9)।

১২. দাঁত ও গলা ব্যাথা উপশমে

ঠান্ডা লেগে গলা ব্যাথা হলে, দাঁতে ব্যথা হলে খান তিসি বীজ। এর মধ্যে আছে এক অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ব্যাথা বা প্রদাহ উপশমে চটজলদি কাজ করে।

১৩. অ্যাজমা বা হাঁপানি কমাতে

তিসি বীজে আছে সোয়াবিন প্রোটিনের সেই গুণ যা অ্যালার্জি বা অ্যাজমার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়াও তিসির বীজের মধ্যে থাকা ওমেগা-৩ ও আলফা-লিনোলিক-অ্যাসিড প্রদাহ জনিত সকল রোগ নিবারণ করতে পারে।

১৫. বাতের ব্যাথা কমায়

নিয়মিত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খাওয়া শুরু করলে এর মধ্যে থাকা খনিজ উপাদানগুলি বাতের ব্যাথা কমানোর পাশাপাশি রক্তনালীর কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এটি আমাদের শরীরের ক্যলসিয়াম এর মাত্রাও বাড়ায়। ফলে হাড় ও শরীরের বিভিন্ন হাড়ের সন্ধিগুলি বা জয়েন্টগুলো সুস্থ থাকে। ও বৃদ্ধ বয়সে হাড়জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

১৬. কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা দূরীকরণে সহায়তা করে

প্রতিদিন ২ গ্লাস জলের সাথে ৩ চামচ তিসি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। নিয়মিত তিসি বীজ খেলে, হজমশক্তি ও খাদ্য পরিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, পরিপাক্ তন্ত্র সুস্থ সবল থাকে। তবে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা উচিত।

১৭. গর্ভাবস্থায় উপকারী

তিসি বীজ হল বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসের উৎস। বলাই বাহুল্য যে, গর্ভবতী মহিলার এই সকল পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। এইসব প্রোটিন, ওমেগা-৩ এর মত ফ্যাটি অ্যাসিড সন্তানের সুস্বাস্থ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর রেটিনা ও অপটিভ নার্ভ বিকাশে সহায়তা করে তিসি বীজের এই সকল উপাদান। তবে গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ না করে এই তিসি বীজ খাওয়া একেবারেই উচিত নয় (10)।

১৮. ত্বকের উজ্বলতা বৃদ্ধি করে

নিয়মিত তিসি বীজ খাওয়া শুরু করলে, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, মুখে বলিরেখা বা বয়সজনিত ছাপ দূর হয়। এটি ত্বকের রুক্ষতা ও শুষ্কতা দূর করে আদ্রতা বজায় রাখে এবং মসৃণ ও উজ্জ্বল করে ত্বককে। খাবার পাশাপাশি তিসি দিয়ে ফেস মাস্ক বানিয়েও লাগাতে পারেন।
কীভাবে বানাবেন ফেস মাস্কঃ

প্রত্যেকদিন সকালে দু টেবিল চামচ কাঁচা মধুর সাথে, এক চা চামচ লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ তিসির তেল মিশিয়ে একটা ফেসিয়াল মাস্ক বানিয়ে লাগাতে পারেন আপনার মুখে। মিনিট ১৫ পর সাধারণ ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহ খানেক ব্যবহারের পর পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।

১৯. চুল মজবুত করে

রোজকার দূষণের ফলে আমাদের সবার এক সমস্যা হল অত্যাধিক মাত্রায় চুল পড়ে যাওয়া। কিন্তু যখন রোজকার ডায়েটে থাকে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তিসি, তখন এই সমস্যার সমাধান হয় খুব সহজেই। তিসির খাদ্যগুণ স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়ায় ফলে চুল পড়ার সমস্যা কমে, চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় (11)। তিসি দিয়ে একটি হেয়ার জেল বানাতে পারেন।

হেয়ার জেল বানানোর উপায়

দু কাপ জল নিন। জল ফুটে এলে চার টেবিল চামচ তিসি বীজ দিয়ে পাত্রটা ঢেকে দিন এবং অল্প আঁচে ১৫-২০ মিনিট ফুটতে দিন। গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রনটা একটি পাত্রে ছেঁকে নিন। প্রত্যেকদিন সকালে জেলটি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন, সুফল পাবেন শীঘ্রই।

এই হল তিসি বীজের সকল উপকারীতা। নিত্যদিন তিসি বীজ খেলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে কয়েকগুণ। এবার জেনে নিন এর দানায় দানায় লুকিয়ে আছে কত কী পুষ্টিগুণ।

তিসি বীজের পুষ্টিগুণ

১০০ গ্রাম তিসির বীজে রয়েছে (12) ,

  • প্রোটিন ১৮.২৯ গ্রাম
  • শর্করা ১.৫৫ গ্রাম
  • এনার্জি ৫৩৪ কিলো ক্যালোরি
  • ফাইবার ২৭.৩ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ২৫৫ মিলিগ্রাম।

কীভাবে তিসি বীজের মিষ্টি লাড্ডু বানানো হয়?

তিসি বীজের লাড্ডু যে কেবল খেতেই সুস্বাদু তা নয়। বরং এর পুষ্টিগুণও খুব বেশি এবং বানানোও ভীষণ সহজ। এই প্রবন্ধে তিসি বীজ দিয়ে লাড্ডু বানানোর একটি দারুণ রেসিপি আপনি পাবেন, যা আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর তো বটেই, এমনকি সময়-অসময়ের মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছেও আপনি এই খাবার দিয়ে চটজলদি মিটিয়ে নিতে পারবেন। তাহলে চলুন, দেরি না করে আমরা দেখে নিই, কীভাবে বানানো যায় তিসি বীজের মিষ্টি লাড্ডু।

লাড্ডু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মোট সময়ঃ

এই লাড্ডু তৈরি করতে আপনার মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগবে। অর্থাৎ খুব সহজেই এবং ভীষণ তাড়াতাড়ি আপনি বানিয়ে ফেলতে পারবেন এই খাবারটি।

পরিমাণ ও সংখ্যাঃ

আমরা মোট ১৮-২০টি লাড্ডু তৈরি করব।

চলুন দেখি, এই পরিমাণ লাড্ডু বানাতে আপনার কী কী উপকরণ কত পরিমাণ লাগবে।

উপকরণঃ

  • তিসি বীজ ১/২ কাপ
  • (কাজু+ আখরোট+ কাঠবাদাম) মেশানো বাদাম ১/২ কাপ
  • ছোলার ডাল ১/৪ কাপ
  • ফিগস/ অঞ্জির বা ডুমুরের শুকনো ফল ৪টি
  • গুঁড়ো গুড় বা জ্যাগেরি পাউডার ১ কাপ
  • এলাচ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
  • আদা গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
  • নারকেলের দুধ ১-২ টেবিল চামচ

তিসি বীজের লাড্ডু বানানোর পদ্ধতি

  • প্রথমেই তিসি বীজ, বাদাম এবং ছোলার ডাল নিয়ে তা আলাদা আলাদা করে শুকনো খোলায় নেড়ে নিতে হবে।
  • এরপর মিক্সিতে বাদামগুলি দিয়ে তা গুঁড়ো করে নিতে হবে।
  • এরপর ওই মিক্সিতেই তিসি বীজ এবং ছোলার ডাল দিয়ে সব একসঙ্গে আবার গুঁড়ো করে নিতে হবে।
  • এবার ওই মিশ্রণে ফিগস, গুড়, এলাচ গুঁড়ো এবং আদা গুঁড়ো দিয়ে সব আরেকবার মিক্সিতে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • মনে রাখতে হবে মিশ্রণটি যেন শুকনো বা ঝুরঝুরে না হয়। মিশ্রণটি আঠালো হতে হবে যাতে সহজেই গোল্লা পাকানো যায়। মূলত গুড় এবং ফিগই গোটা লাড্ডুতে বাঁধন হিসেবে কাজ করে।
  • এবার গোটা মিশ্রণটি একটি বাটিতে নিয়ে নিন। যদি দেখেন মিশ্রণটি খুবই শুকনো কিংবা ঝুরঝুরে, তাহলে তাতে একটু একটু করে নারকেলের দুধ মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন পুরো ২ টেবিল চামচ নারকেলের দুধই আগে মিশ্রণে দিয়ে দেবেন না। যদি প্রয়োজন হয়, সেই বুঝে বাকি দুধটুকু দেবেন।
  • এরপর একটু একটু করে মিশ্রণ হাতে নিয়ে তা লাড্ডুর আকারে গড়ে নিন।
  • এরপর শুকিয়ে নেওয়া ঝুরো নারকেল কুচির মধ্যে তা একবার মাখিয়ে লাড্ডুটি আলাদা পাত্রে তুলে রাখুন।

বি.দ্রঃ যদি বাদাম খেলে আপনার শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেয়, তাহলে বাদামের বদলে আপনি কয়েকটি বীজের মিশ্রণ এই লাড্ডুতে মেশাতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি আপনার লাড্ডুতে মেশাতে পারেন মোট ১/২ কাপ কুমড়ো, তরমুজ ও সূর্যমুখী ফুলের বীজ।

তিসি বীজের ব্যবহারঃ

রোজকার ডায়েটে তিসি বীজ রাখার কথা ভাবছেন? জেনে নিন কিভাবে খাবেন? কতটা পরিমানে খাবেন? আর কখন খেলে উপকার পাবেন বেশী।

কীভাবে খাবেন?

  • তিসির বীজ ভিজিয়ে জলের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে
  • স্যালাড বা স্যান্ডুইচে তিসি বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন
  • স্যুপ বা দইয়ে ছড়িয়ে খেতে পারেন
  • তিসি বীজ গুঁড়ো রান্নার সময় ব্যবহার করতে পারেন

কখন ও কতটা পরিমাণে খাবেন

বাজার থেকে তিসি বীজের গুঁড়ো কিনতে পারেন আবার গোটা বীজ কিনে নিয়ে এসে রোস্ট করে ঘরেই পাউডার বানিয়ে নিতে পারেন। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে বা সকালে খালি পেটে জলখাবারের সাথে খেলে বেশী উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন ছোট চামচের এক চামচই যথেষ্ট সুস্থ থাকার জন্য।

কীভাবে অনেকদিন পর্যন্ত তিসি বীজ ভালো রাখবেন?

যদি আপনি বাজার থেকে একেবারে গুঁড়ো করা তিসি বীজ কেনেন কিংবা যদি গোটা তিসি বীজ কিনে বাড়িতে এনে তা গুঁড়ো করেন, তাহলে তা এয়ারটাইট কোনও কৌটোয় রেখে ফ্রিজে ভরে রাখুন। আবার গোটা তিসি বীজ কিনলে তাও আপনি এভাবে রাখতে পারেন। এভাবে রাখলে সেই তিসি বীজ কিংবা গুঁড়ো দুইই মাস ছয়েকের বেশী সময় অবধি ভালো থাকে। আর ভাঙাই হোক কিংবা গুঁড়ো করা, যদি তিসি বীজ আপনি ফ্রিজে ভরে না রাখেন তাহলে এই বীজ খুব সহজেই তার সমস্ত পুষ্টিগত গুণাগুণ হারিয়ে ফেলবে। এবং তা দ্রুত বিস্বাদ এবং কষাটে খেতে হয়ে যাবে।

আর যদি তিসি বীজের তেল আপনি বহুদিন অবধি ভালো রাখতে চান, তাহলে প্লাস্টিকের বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। মনে রাখবেন প্লাস্টিকের বোতলটি এমন হওয়া উচিৎ, যাতে তার মধ্যে দিয়ে সামান্য আলো ভেতরে ঢোকে এবং মুখ ভীষণ ভালোভাবে বন্ধ করা যায়।

কাদের জন্য তিসি বীজ খাওয়া ভীষণ বিপজ্জনক?

গোটা প্রবন্ধ পড়ে আপ্যারা ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন যে, তিসি বীজ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারী। এবার আসুন আমরা জেনে নিই এই তিসি বীজ খাওয়া কাদের কাদের একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।

বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী শারীরিক কিছু সমস্যার সঙ্গে তিসি বীজের সম্পর্ক একেবারেই বিপরীত। সেই সমস্যাগুলি নিয়ে আমরা নীচে আলোচনা করলাম। নীচে আলোচ্য কোনও রোগ যদি আপনার থেকে থাকে, তাহলে তিসি বীজ খাওয়া শুরু করার আগে অবশ্যই আপনি নিজের ডাক্তারের সঙ্গে একবার পরামর্শ করে নেবেন।

  • যদি আপনি সন্তান ধারণের চেষ্টা করছেন
  • যদি আপনার শিশুকে আপনি এখনও স্তন্যপান করান
  • যদি ডাক্তারের পরামর্শ মতো কোনও নিয়মিত ওষুধ আপনি খেয়ে থাকেন
  • যদি কোনও খাবার, ওষুধ কিংবা কোনও জিনিস থেকে আপনার অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা থাকে
  • যদি হৃদরোগ, পেটের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এর মতো কোনও সমস্যায় আপনি ভোগেন।

তিসি বীজের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

প্রত্যেক ভালোর মধ্যেও কিছু মন্দ থাকে। ঠিক তেমনি তিসি বীজের অপরিসীম এই উপকারীতার মাঝেও কারোর কারোর জন্য অপকারী হয়ে তিসি বীজ ও অন্যথা নয়, অত্যাধিক মাত্রায় তিসি বীজ খেলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন –

  • সাময়িক পেট খারাপ হতে পারে
  • ত্বকে সাময়িকভাবে এলার্জি দেখা দিতে পারে
  • শুরুর দিকে ব্লাড প্রেসার বা সুগার বিপদসীমার নীচে নেমে যেতে পারে (13)
  • কেটে গেলে রক্ততঞ্চন প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে (14)
  • হরমোনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে
  • গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপানের সময় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অত্যাধিক মাত্রায় কোন কিছুই খাওয়া ভাল না। তাই যাই খান, সঠিক ব্যবহার ও পরিমাপ জেনে খান এবং সুস্থ থাকুন। দরকারে আপনার চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। তাদের থেকে জেনে নিন তিসি বীজ বা ফ্ল্যাক্স সিড আপনার খাওয়া চলবে কি না, খেলেও কতটা পরিমাণে খাবেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী

তিসি বীজের পরিবর্তে চিয়া সিড কী ব্যবহার করা যেতে পারে?

উঃ হ্যাঁ, তিসি বীজ এবং চিয়া বীজের খাদ্যগুণ,পুষ্টিগুণ এবং উপকারীতা সমান। এমনকি তাদের দেখতেও এক ধরণের।

তিসি বীজ কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

উঃ আপনার কাছের দোকান বা শপিং মলে তিসি বীজ, তিসি বীজের গুঁড়ো, তিসির তেল সব কিনতে পাবেন। এছাড়া অনলাইনে আমাজন, ফ্লিপকার্টের মত বিজনেস পোর্টালেও পাবেন।

তিসি বীজ কি কাঁচা খাওয়া যায়?

উঃ হ্যাঁ, আপনি তিসি বীজ কাঁচাও খেতে পারেন। তবে তিসি বীজের গুঁড়ো খেলে বেশী উপকার পাবেন।

তিসি বীজ খেলে কি ব্রণর সমস্যা দেখা দিতে পারে?

উঃ কিছু সময় কিছু ক্ষেত্রে যদি আপনার তিসি বীজ সহ্য না হয় সেক্ষেত্রে ব্রণ-র সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সাথে সাথে তিসি বীজ খাওয়া বন্ধ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিভিন্ন ভাষায় তিসি বীজকে কী কী বলা হয়?

হিন্দী, উর্দু, মারাঠি, গুজরাটি ও পাঞ্জাবি ভাষায় তিসি বীজকে ‘আলসি বীজ’(Alsi Seeds) বলা হয়। কন্নড় ভাষায় বলা হয় ‘আগাসী(Agase)’, তামিলে ‘আলি ভিদাই(Ali Vidai)’ এবং তেলেগুতে ‘আভিস গিঞ্জালু(Avise Ginzalu)’। বাংলায় বলা হয় ‘তিসি(Tisi)’ বা ‘পেসি(Pesi)’ বীজ। মালয়ালাম ভাষায় এই বীজ ‘চেরুচানাভীত(Cheruchanavith)’ নামে পরিচিত।

পেটের চর্বি কমাতে তিসি বীজ কি সহায়তা করে?

উঃ হ্যাঁ, ওজন কমানোর সাথে সাথে পেটের মেদ ঝড়াতেও অনন্য এই তিসি বীজ।

তিসি বীজের প্রকৃতি ঠান্ডা না গরম?

উঃ এই সম্পর্কিত বিজ্ঞানসম্মত কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায় নি।

তিসি বীজের ক্যাপসুল কি নিরাপদ?

উঃ হ্যাঁ, তিসি বীজের ক্যাপসুলে পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও তিসি বীজের অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে যা ব্লাড সুগার, প্রেসার, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

রোস্টেড তিসি বীজ কি বেশী উপকারী?

উঃ হ্যাঁ, রোস্টেড তিসি বীজ খেতেও ভাল, গুঁড়ো করে খাবারের সাথে ছড়িয়ে খেলে বেশী উপকার পাওয়া যায়।

14 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?
scorecardresearch