ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে তৈলাক্ত বা তেলতেলে চুলের হাত থেকে মুক্তির উপায় | Home Remedies for Oily Hair

by

সুন্দর চুল আর সুন্দর ত্বকের কদর সর্বত্র। তা এই চুল নিয়ে যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে তা চিন্তার বিষয় হবে বৈ কি! চুলের অন্য সব সমস্যার মধ্যে তৈলাক্ত বা তেল চপচপে চুলের সমস্যা এক অতি পরিচিত ঘটনা। মোটামুটি আমরা অনেকেই জানি যে, শরীরের স্বাভাবিক তৈলাক্ত দ্রব্য বা ন্যাচারাল অয়েল (সিবাম) চুলের যাবতীয় পুষ্টি জোগায় এবং একই সাথে চুলকে রক্ষা করে। তবে চুল যদি এখন অস্বাভাবিক রকমের তেলতেলে হয়ে থাকে তাহলে তা চিন্তার বিষয়! চুল অস্বাভাবিক রকমের তৈলাক্ত থাকার কারণে চুলের গোড়া ঘেমে যায়, মাথা চটচট করে, আর সর্বক্ষণ একটা অস্বস্তি বোধ কাজ করে, তা সে যতই ঘন ঘন শ্যাম্পু করা হোক না কেনো। অনেক সময় আবার মাথার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হওয়ার কারনে মাথা ত্বক কুটকুট করে, লাল হয়ে যায়, এমনকি সেবোরহাইক ডার্মাটাইটিস পর্যন্ত হওয়ার উপক্রম হয়। তবে এটা এমন কিছু কঠিন জিনিস নয় যার থেকে মুক্তি মেলা দুষ্কর। সহজ কতকগুলি ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে অনায়াসেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিন্তু তার আগে যে বিষয় আমাদের আগে জানা দরকার তা হলো, ঠিক কী কী কারণে চুল তৈলাক্ত হয়ে যায়।

তৈলাক্ত চুলের কারণ

যে যে কারণে চুল তৈলাক্ত হয়ে যায় সেগুলি হলো যথাক্রমে –

  • আর্দ্রতা – আবহাওয়া যদি কোনো কারণে আর্দ্র হয়ে থাকে তাহলে চুল তেলতেলে হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল হয়ে থাকে। সে আপনি চুলে যতোই শ্যাম্পু করে থাকুন না কেনো। গ্রীষ্মকালেই মূলত এইরকমটা বেশি হয়।
  • বারবার চুলে হাত দেওয়ার অভ্যাস থাকলেও চুল সহজেই তেলতেলে হয়ে যেতে পারে। কারণ হাতের মাধ্যমে চুলে তেল চলে যায়।
  • বেশ কিছু হেয়ার সিরাম রয়েছে, যেগুলির ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়।
  • খুব বেশি মাত্রায় কণ্ডিশনার ব্যবহার করার ফলে হয়।
  • শরীরে ‘ভিটামিন বি’ এর অভাব জনিত কারণে এরকম হয়।
  • হরমোনাল ইমব্যালান্সেস বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • ঘন ঘন চুলে শ্যাম্পু করলে চুলের গোড়া থেকে ন্যাচারাল অয়েল বেরিয়ে আসে, আর সেই কারণে মাথার ত্বক তেল চটচটে হয়ে যায়।
  • দীর্ঘদিন ধরে যদি খুসকির চিকিৎসা না করা হয় তাহলেও অনেক ক্ষেত্রেই মাথার চুল স্থায়ীভাবে তৈলাক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
  • নিয়মিত মাথার চুল পরিষ্কার করা না হলেও চুল তেল চিটচিটে হয়ে যেতে পারে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈলাক্ত চুল থেকে মুক্তির উপায়

নির্দিষ্ট কতকগুলি ঘরোয়া উপকরণের সাহায্যে নিম্নলিখিত পদ্ধতি গুলি অনুসরণ করলে খুব সহজেই তৈলাক্ত চুলের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

১. বেকিং সোডা

বেকিং সোডা ড্রাই শ্যাম্পু হিসেবে কাজ করে এবং চুল শুষ্ক এবং স্বাভাবিক করে তোলে। প্রাচীণ পুঁথিপত্র থেকে জানা যায় যে, বেকিং সোডার ক্ষারীয় প্রকৃতি মাথার ত্বকের pH এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একই সাথে মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়।

উপকরণ

বেকিং সোডা ( প্রয়োজন অনুসারে)

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • সমস্ত মাথার ত্বক এবং চুলে বেকিং সোডা ছিটিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর মাথার সব চুল আচড়ে সেটা মেলে দিতে হবে।
  • এছাড়াও এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে ৩-৪ টেবিল চামচ জল মিশিয়ে সেই মিশ্রণটা মাথার ভিজে চুলে লাগাতে হবে। কয়েক মিনিট পর চুল ধুয়ে নিতে হবে।

কত বার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে অন্তত ২ বার ব্যবহার করা দরকার।

২. অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের মধ্যস্থিত অ্যাসিটিক অ্যাসিডের উপস্থিতি PH এর ভারসাম্যকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রন করে (1) । একইরকম ভাবে এর আম্লিকতা মাথার ত্বকের ক্ষারীয় মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। যেহেতু তৈলাক্ত চুলের ক্ষারীয় মাত্রা কম হয় তাই অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের সাহায্যে চুল ধুলে চুলের ক্ষারীয় মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এবং মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।

উপকরণ

  • ২-৩ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার
  • ১ কাপ জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • ১ কাপ জলের সাথে ২-৩ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ভালো ভাবে মেশাতে হবে।
  • এরপর মাইল্ড ক্লিনসার বা হালকা জাতীয় ময়লা দূরীকারক পদার্থ দ্বারা চুল পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • মাইল্ড ক্লিনসার দিয়ে চুল পরিষ্কারের পর অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার এবং জল এর সাহায্যে বানানো মিশ্রণ চলে লাগাতে হবে।
  • কয়েক মিনিট ঐ মিশ্রণ লাগিয়ে রাখার পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

কত বার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ বার ব্যবহার করা জরুরী।

৩. টি ট্রি অয়েল

দীর্ঘদিন ধরে খুসকির সমস্যায় কাহিল থাকার জন্য যাদের মাথার চুল তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই টি থ্রি অয়েলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে এই টি থ্রি অয়েল জীবানুনাশক হওয়ার কারণে এটা সহজেই মাথার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব এবং চুলকুনি প্রতিরোধ করে (2) ।

উপকরণ

  • ১৫ ফোঁটা টি থ্রি অয়েল।
  • যে কোনো পরিবাহক তেল/ ক্যারিয়ার অয়েল ৩০ মিলি ( নারকেল তেল অথবা জোবোবা অয়েল)

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • ১৫ ফোঁটা টি থ্রি অয়েল এর সাথে যে কোনো ক্যারিয়ার অয়েল ৩০ মিলি মেশাতে হবে।
  • এই মিশ্রণটিকে স্ক্যাল্পে বা সমগ্র মাথার ত্বকের ওপর লাগিয়ে নিতে হবে এবং চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর সব চুলেই লাগাতে হবে।
  • অন্তত ১ ঘন্টা এই মিশ্রনের প্রলেপ লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর চুল ধুয়ে নেওয়া যাবে।
  • টি থ্রি অয়েল সরাসরিও মাথার ত্বকে লাগানো যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জেনে নেওয়া জরুরী যে ত্বক যেনও সংবেদনশীল না হয়।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে ২-৩ বার এই মিশ্রন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. নারকেল তেল

চুলে শ্যাম্পু করার আগে কিছু সময় নারকেল তেল মেখে থাকলে যে উপকার মেলে সে কথা অনেকেই জানেন। এই উপকার টা হলো আর কিছুই নয়, এতে করে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে হেয়ার কণ্ডিশাননিং করা যায়। অন্যান্য সব তেলের তুলনায় বিশুদ্ধ নারকেল তেলের আনবিক ওজন কম হওয়ার কারণে এই তেল চুলে লাগানোর ফলে আলাদা রকম ঔজ্জ্বল্য বা জেল্লা দেখা যায় (3)। এছাড়াও নারকেল তেল মাথার ত্বকের অতিরিক্ত সিবাম তৈরী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে।

উপকরণ

বিশুদ্ধ নারকেল তেল (প্রয়োজন অনুসারে)

  • ব্যবহারের পদ্ধতি – হাতের তালুতে বিশুদ্ধ নারকেল নিয়ে দু হাতের তালুর সাহায্যে ঘষে নিতে হবে।
  • এরপর ঐ তেল মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগাতে হবে।
  • এইভাবে ১ ঘন্টা লাগিয়ে রাখার পর মাইল্ড শ্যাম্পুর সাহায্যে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

কতবার ব্যবহার করতে যাবে

প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১ বার।

৫. ডিমের কুসুম / এগ ইয়ক

ফ্যাটি অ্যাসিড সহ একাধিক পরিপোষক পদার্থ সমৃদ্ধ ডিমের কুসুম চুলের স্বাভাবিক সিবাম বজার রাখতে সহায়তা করে (4)। সেই কারণে ডিমের কুসুম ব্যবহার করার ফলে হেয়ার ফলিকলস থেকে অতিরিক্ত সিবাম নিঃসরণ রোধ হয়।

উপকরণ

  • ১ টা ডিমের কুসুম
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রস

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • ১টা ডিমের কুসুমের সাথে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর পরিষ্কার চুলে এই মিশ্রণ টি লাগাতে হবে।
  • ৩০-৪০ মিনিট সময় এই মিশ্রণ লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • শেষে ঠাণ্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

কতবার ব্যবহার করতে হবে

প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১ বার।

৬. পাতিলেবুর রস

পাতিলেবুর রসে রয়েছে সাইটিক অ্যাসিড। হ্যামস্টারদের নিয়ে হওয়া একটি গবেষণা থেকে জানতে পারা যায় সাইট্রাস ফ্লাভোনয়েড সিবাম নিঃসরণে বাধা প্রদান করে (5)।

বি দ্রঃ

মাথায় পাতিলেবুর রস লাগিয়ে কখনও রোদে বসা উচিৎ নয়। কারণ সূর্য রশ্মি, পাতিলেবুর রস মাখা মাথার ত্বকে রাসয়নিক বিক্রিয়া (ব্লিচ) করার সম্ভবনা রয়েছে।

উপকরণ

  • ২ টি পাতিলেবু
  • ২ কাপ বিশুদ্ধ জল

ব্যবহার পদ্ধতি

  • ২ টি পাতিলেবুর রস বের করে নিতে হবে।
  • এরপর ২ কাপ বিশুদ্ধ জল ঐ রসের সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এই মিশ্রণটিকে রেফ্রিজারেটরে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে।
  • প্রতিবার চুল ধোয়ার পর তা শুকিয়ে নিয়ে এই মিশ্রণটি লাগাতে হবে।
  • এই মিশ্রণ ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর চুল ধুয়ে নিতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

মাঝে মধ্যেই যখন চুল বেশি তেল চটচটে হয়ে যাবে।

৭. অ্যালোভেরা

পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিপোষক পদার্থ সমৃদ্ধ অ্যালোভেরাতে রয়েছে একাধিক পুষ্টিগুণযুক্ত উপাদান (6)। এই কারণে অ্যালোভেরা সিবাম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রন করতে পারে এবং একইসাথে অ্যালোভেরা ব্যবহারের জন্য চুলও নরম থাকে।

উপকরণ

  • ১-২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল
  • ১ টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস
  • ১ কাপ জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • ১-২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে ১ টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।
  • ঐ মিশ্রণের সাথে ১ কাপ জল যোগ করতে হবে। এবং মিশ্রণটিকে ভালো করে গুলিয়ে নিতে হবে।
  • তারপর মিশ্রণটিকে মাথার শুকণো চুলে লাগাতে হবে। শ্যাম্পু করার পর লাগালে বেশি ভালো হয়।
  • এইভাবে বেশ কয়েক মিনিট লাগিয়ে রাখার পর, ঠাণ্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে ১ বার।

৮. কোকো পাউডার

শুকনো শ্যাম্পু হিসেবে কাজ করে কোকো পাউডার । বিশেষত যদি আপনার চুলের রঙ কালো হয়। কথিত আছে যে, কোকো পাওডার মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে চুল কে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। অবশ্য এই কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

উপকরণ

১ চা চামচ কোকো পাউডার

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • মাথার চুলে এবং ত্বকে নির্দিষ্ট পরিমাণে কোকো পাওডার ছিটিয়ে দিতে হবে।
  • এরপর চিরুনি দিয়ে সুন্দর করে চুল আচড়ে নিতে হবে।
  • তবে যেসব মানুষের চুলের গঠন পাতলা হয় তারা অ্যারারুট পাওডারও বেছে নিতে পারেন।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

যখনই আপনার শ্যাম্পু করার মতন সময় থাকবে না অথচ পরিষ্কার ফুরফুরে চুলের দরকার হবে তখনই ব্যবহার করতে পারেন।

৯. এপসম লবন

এপসম লবন হল পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাগনেসিয়ামের ভাণ্ডার। এই ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের প্রদাহ বা জ্বালাভাব দূর করে এবং একই সাথে স্ক্যাল্প থেকে নিঃসৃত অতিরিক্ত সিবাম শোষণ করে নেয় (7)।

উপকরণ

১-২ চা চামচ এপসম লবন

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • সামাণ্য এপসম লবন শ্যাম্পুর সাথে যোগ করতে হবে।
  • ঐ শ্যাম্পু চুলে লাগাতে হবে।
  • এপসম লবন যুক্ত শ্যাম্পু মাথায় লাগানোর পর কিছু সময় রাখতে হবে যাতে ঐ লবন তার কাজ করতে পারে। কয়েক মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলা যাবে।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

দু সপ্তাহে একবার

১০. আর্গন অয়েল

আর্গন অয়েল দ্বারা মাথার ত্বক এবং চুলের গোড়া মালিশ করলে তা আর্দ্র থাকে। আর সেই কারণেই সিবাম নিঃসরণ এবং রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রিত থাকে (8) । যদিও তৈলাক্ত চুলে আর্গন অয়েল এর ভূমিকার ব্যাপারে খুবই সীমিত তথ্য জানা গেছে।

উপকরণ

  • বিশুদ্ধ আর্গন অয়েল (প্রয়োজন অনুসারে)
  • একটা তোয়ালে / গামছা

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • কিছুটা পরিমাণ আর্গন অয়েল নিয়ে স্ক্যাল্প এবং চুলের ওপর ভালোভাবে লাগাতে হবে।
  • এরপর মাথাটা তোয়ালে জড়িয়ে নিতে হবে।
  • ঐ তেল মাথার ত্বক এবং চুলের গোড়ায় কাজ করার জন্য ৩০-৬০ মিনিট পর্যন্ত সময় দিতে হবে।
  • মাথা পরিষ্কার করে নেওয়ার জন্য সব শেষে মাইল্ড শ্যাম্পু এবং হালকা গরম জল ব্যবহার করতে হবে।

কত বার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে ১ – ২ বার

১১. গ্রীন টি

গ্রীন টি তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেলন। এই পলিফেলন যখন মাথার ত্বকের সংস্পর্শে আসে তখন তা খুবই কার্যকরী হয়ে ওঠে। সিবাম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রনেও গ্রীণ টির জুড়ি মেলা ভার (9) ।

উপকরণ

  • ১/২ কাপ গ্রীন টি
  • ১ কাপ জল

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • ১/২ কাপ গ্রীন টির সাথে ১/২ কাপ জল মিশিয়ে সেটা সসপ্যানে গরম করতে হবে।
  • ৫ মিনিট অল্প আঁচে ফুটিয়ে ছেঁকে নিতে হবে।
  • গ্রীন টির মিশ্রণ টা একটু ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার পর তা মাথার ত্বক এবং চুলে লাগাতে হবে।
  • ৩০- ৪৫ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর তা ধুয়ে ফেলতে হবে।

কত বার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে ১ বার

১২. ওট মিল

চুলের পুষ্টি এবং বৃদ্ধির জন্য ওট মিল খুবই কার্যকরী এবং উপাদেয় একটা দ্রব্য। এর ঘনত্ব থকথকে প্রকারের হওয়ার জন্য তা সহজেই চুলের অতিরিক্ত চটচটে ভাব শোষণ করে নেয়। ওটমিল স্থিত প্রদাহ নাশক উপাদান মাথার ত্বক শুষ্ক এবং চুল নরম রাখতে সহায়তা করে।(10)

উপকরণ

রান্না করা ওট মিল

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • সামাণ্য কিছু পরিমান রান্না করা ওটমিল স্ক্যাল্পের চারিদিকে লাগাতে হবে।
  • ভালো ফলাফলের জন্য ১৫- ২০ মিনিট এইভাবে রেখে দিন।
  • শেষে মাইল্ড শ্যাম্পু সহযোগে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

প্রতি সপ্তাহে ১ – ২ বার

১৩. জোজোবা অয়েল

জোজোবা অয়েল অনেকটাই মাথার ত্বক থেকে নিঃসৃত স্বাভাবিক সিবামের প্রকৃতির হয়। জোজোবা অয়েলের সঙ্গত পরিমাণ ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ সিবাম নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। (11)

উপকরণ

জোজোবা অয়েল (প্রয়োজন অনুসারে)

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • সারা মাথার ত্বকে ভালো করে জোজোবা অয়েল লাগাতে হবে।
  • ৩০- ৬০ মিনিট তেল লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পুর সাহায্যে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

কত বার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে ১ বার

১৪. ইওগার্ট হেয়ার মাস্ক / দই এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দ্রব্য সহযোগে প্রস্তুত প্রলেপ

তৈলাক্ত চুলের হাত থেকে সহজে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটি অন্যতম উপায় হলো ইওগার্ট মাস্ক। এই প্রলেপ প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের পুষ্টি জোগায় এবং মাথার ত্বকের pH স্তর নিয়ন্ত্রন করে (12) ।

উপকরণ

  • ১/২ কাপ সাধারণ দই
  • ২ টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস
  • ১ চা চামচ বেকিং সোডা

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • উপরিক্ত সব কটি উপাদানকে একসাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • মিশ্রনটিকে মসৃন করে নেওয়ার জন্য ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে।
  • এবার এই মিশ্রণ কে মাথায় বিশেষত মাথার ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে।
  • এই মিশ্রণের প্রলেপ মাথায় লাগানো হয়ে গেলে একটা তোয়ালের সাহায্যে মাথাটা ৩০ মিনিট সময় ঢেকে রাখতে হবে।
  • সব শেষে জল দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে।

কত বার ব্যবহার করা যাবে

সপ্তাহে ১ বার

১৫. হেনা

চুলের জন্য উপযোগী অপর একটি প্রাকৃতিক উপাদান হলো হেনা। বলা হয় যে হেনা মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয় এবং স্ক্যাল্পের সিবাম নিঃসরণ নিয়ন্ত্রনে রাখে। অবশ্য এই তথ্য প্রমাণের জন্য কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

উপকরণ

  • ১/২ কাপ হেনা গুড়ো
  • ১ টা ডিমের সাদা অংশ
  • ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল (ঐচ্ছিক)

ব্যবহারের পদ্ধতি

  • ডিমের সাদা অংশ এর সাথে ১/২ কাপ হেনা গুড়ো ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে।
  • বেশি শুষ্ক ভাব এড়িয়ে চলার জন্য দরকার হলে ঐ মিশ্রণে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল যোগ করা যেতে পারে।
  • মিশ্রণটি ৩০-৬০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর মাথার চুল ধুয়ে নেওয়া যাবে।

কতবার ব্যবহার করা যাবে

২ সপ্তাহ অন্তর অথবা চুল বেশি তেল চটচটে হয়ে গেলেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

তৈলাক্ত চুল থেকে সহজে মুক্তি পাওয়ার উপায়

তৈলাক্ত চুলের সমস্যা থেকে অনায়াসে মুক্তি পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি অবশ্য পালনীয় পদক্ষেপ রয়েছে। যার মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ রয়েছে যে গুলি আমাদের অনুসরণ করা উচিৎ আবার বেশ কিছু পদক্ষেপ রয়েছে যেগুলিকে উপেক্ষা করা উচিৎ।

করা উচিৎ নয় ,

  • ঘন ঘন মাথার চুলে হাত দেওয়া উচিৎ নয়।
  • চুল কণ্ডিশানিং করার জন্য স্ক্যাল্পের ওপর কণ্ডিশনার লাগানো উচিৎ নয়।
  • বেশি মানসিক চাপ বা স্ট্রেশিং এড়িয়ে চলা উচিৎ।
  • গরম জলের সাহায্যে চুল ধোয়া উচিৎ নয়।
  • গরম করা যায় এমন যন্ত্র ঘন ঘন চুলের সংস্পর্শে নিয়ে যাওয়া উচিৎ নয়।
  • চিনি, তেজে ভাজা খাবার, এবং মাংস এইসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ কারণ এইসব খাবার খেলে গ্ল্যাণ্ডে বা গ্রন্থিতে বেশি তেল উৎপন্ন হয়।

করণীয়

  • ২- ৩ দিন অন্তর মাথার চুল ধোয়া দরকার এবং রোজই চুল ধোয়ার কোনো দরকার নেই।
  • খুবই মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিৎ যাতে চুলের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব বজায় থাকে।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন।
  • প্রয়োজনীয় পরিমান জল পান জরুরী।
  • প্রতি সপ্তাহে মাথার বালিশের ঢাকনা বদল করা জরুরী।
  • ঠাণ্ডা অথবা হালকা গরম জলের সাহয্যে চুল ধোয়া দরকার।
  • ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার যেমন বিনস, হাঁস – মুরগির মাংস, মাছ এবং তাজা শাক সবজি খাওয়া দরকার।

উপরিক্ত নিবন্ধ থেকে তৈলাক্ত চুলের সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় সম্বদ্ধে বিশদে একটি ধারণা পাওয়া গেলো। তৈলাক্ত চুলের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে ঐ সব নির্দেশাবলী পালন করলে নিশ্চিত ফল মিলবে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে যে কোনো রকম উপায় অনুসরণের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী।

12 sources

Articles on StyleCraze are backed by verified information from peer-reviewed and academic research papers, reputed organizations, research institutions, and medical associations to ensure accuracy and relevance. Check out our editorial policy for further details.
Was this article helpful?
The following two tabs change content below.
scorecardresearch