তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মেকআপ টিপস | Makeup Tips for Oily Skin in Bengali

Written by

সাজগোজ করতে ভালোবাসে না এমন মহিলা পাওয়াই দুষ্কর। সাজগোজ বা মেকআপ করা প্রতিটি মেয়ের ভালোবাসা। একজন সাধারণ মেয়েও মেকআপের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে অসাধারণ। আপনার সৌন্দর্য্যকে ফুটিয়ে তুলতে মেকআপের জুড়ি মেলা ভার। তবে জেনে রাখা ভালো ত্বকের প্রকারভেদ অনুযায়ী মেকআপ আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। অনেকেই নিজের ত্বকের ধরন না বুঝে মেকআপ করেন, তার ফলে দেখা যায় মেকআপটা ঠিক ফুটছে না বা কিছুক্ষণ পরই নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে সময় ও পরিশ্রম দুইই নষ্ট হয়। তাই আপনার ত্বক কেমন অর্থাৎ কী ধরনের সেটা জেনে নিয়ে তবেই মেকআপ শুরু করুন। বলে রাখা ভালো, বাজারে ত্বকের ধরন অনুযায়ীই বিভিন্ন মেকআপ প্রোডাক্টস্ পাওয়া যায়, সেগুলো কেনার সময়ও খেয়াল রাখুন। আমাদের তিন ধরনের ত্বক হয়ে থাকে – শুষ্ক, তৈলাক্ত এবং সাধারণ ত্বক। এছাড়াও কারো কারো মিশ্র ত্বকও হয়ে থাকে। আজ আমরা জেনে নেব শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে কীভাবে মেকআপ করলে আরও সুন্দর দেখায়?

মেকআপ শুরু করার আগে তৈলাক্ত ত্বককে প্রস্তুত করা

মেকআপ যাতে সুন্দর দেখায় এবং অনেকক্ষণ সময় পর্যন্ত ঠিক থাকে তার জন্য মেকআপ শুরু করার আগেই ত্বককে তৈরি করা প্রয়োজন। সুন্দর মেকআপের চাবিকাঠি হল সুন্দর ত্বক। এখন এই ত্বক প্রস্তুত করতে একটি খুব সহজ রুটিন মেনে চলতে হবে। ধাপে ধাপে সেই রুটিন বলে দেওয়া হল। আপনি যখন এই সরল রুটিনের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন, তখন দেখবেন খুব একটা বেশি মেকআপ প্রয়োজন হবে না এবং মেকআপও খুব সহজেই হবে।

১. ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং

তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে মেকআপ করা একটা চ্যালেঞ্জ। যেহেতু মুখটা তেলতেলে হয়ে যায়, তাই মেকআপ বসতে সমস্যা হয়। কিন্তু ত্বক তৈলাক্ত হোক আর শুষ্ক, সুস্থ ত্বকের জন্য ত্বককে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এনসিবিআই অর্থাৎ ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়ো টেকনোলজি ইনফরমেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে সঠিক ভাবে ক্লিনজিং করলে ব্রণের সমস্যা চলে যায়। (1)সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে সে সব ক্লিনজার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযুক্ত সেই সব ক্লিনজারই ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসিলিক অ্যাসিড যুক্ত ফেস ওয়াশ কিনতে পারেন, কারণ এতে ত্বকের ব্রণ, অ্যাকনের সমস্যা অনেকটাই দূরে চলে যায়। (2)

গবেষণায় উইচ হ্যাজেল যুক্ত টোনার ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে সহায়ক। (3)এছাড়া পেয়ারার নির্যাস থেকে তৈরি টোনারও ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এতে আছে অ্যান্টি সিবাম গুণ, যা ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন কম করতে সাহায্য করে।(4)ত্বককে ক্লিনজিং, টোনিং করার সাথে ময়েশ্চারাইজিংও করতে হবে। ত্বক এতে কোমল মসৃণ হয়। শীতকালে বেশি করে ময়েশ্চারাইজিং করতে হয় কারণ এই সময় ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যায়।

২. গোলাপ জলের বা ফিনিশিং মিস্টের স্প্রে

মেকআপ করার আগে পুরো মুখে এবং গলায় গোলাপ জল স্প্রে করে শুকোতে দিন।  গোলাপজল ব্যবহার করলে সারাদিন আপনি তরতাজা থাকবেন। এর পাশে গোলাপজল ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে ও ত্বকের পি এইচ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, অ্যাকনের সমস্যাও সমাধান করতে পারে এই গোলাপজল।

৩. প্রাইমার অতি আবশ্যক

মেকআপ শুরু করার আগে প্রাইমার ব্যবহার করা ভীষণ ভাবে দরকার। প্রাইমার ফাউন্ডেশনের বেস তৈরি করে এবং ত্বক ও মেকআপের মাঝে একটা পর্দা তৈরি করতে সাহায্য করে। মেকআপ যাতে অনেকক্ষণ স্থায়ী হয় তাতে প্রাইমার সাহায্য করে। এছাড়া প্রাইমার ব্যবহার করলে ত্বকের হাইপার পিগমেন্টেশন কমে যায় এবং ত্বকের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম লাইনগুলোও ঢাকা পড়ে যায়। (5)

এরপর তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ করার জন্য কী কী জিনিস প্রয়োজন তা জেনে নেব।

তৈলাক্ত ত্বকে কীভাবে মেকআপ করবেন?

এখন ত্বক যখন তৈরি, এবার পালা মেকআপের। যে কোনো ত্বকে মেকআপ করার আগে মেকআপের জন্য জরুরী সামগ্রী সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা খুব দরকার। আপনাকে বুদ্ধি করে সেই সব মেকআপ প্রোডাক্ট কিনতে হবে যেগুলোর সাহায্যে মেকআপ অনেকক্ষণ স্থায়ী হয় আর ত্বকও ওয়েল ফ্রি দেখায়। আর্টিকেলের এই অংশে আমরা জেনে নেব তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে মেকআপের জন্য কী কী দরকার?

  • ফাউন্ডেশন
  • কনসিলার
  • ব্লেন্ডিং স্পঞ্জ বা ব্রাশ
  • সেটিং পাউডার
  • মেকআপ সেটিং স্প্রে

উপরে উল্লেখিত মেকআপ সামগ্রী আপনার মেকআপ ব্যাগে থাকলেই কেল্লা ফতে!

এবার জেনে নেব কিছু মেকআপ টিপস, যা জানার পরে আপনি ঘরে বসেই অনায়াসেই নিজে নিজেই মেকআপ করে নিতে পারবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মেকআপ টিপস্

যদি মেকআপ করার পদ্ধতি আপনার জানা থাকে তাহলে ঘরে বসেই অনায়াসেই আপনি নিজের বেসিক মেকআপ করতে পারেন বা অন্য কাওকে করেও দিতে পারেন। বেসিক মেকআপ করার জন্য আপনাকে কখনোই প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট হতে হবে না। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখে পাঠকদের জন্য দেওয়া হল বেসিক মেকআপ করার পদ্ধতি, ধাপে ধাপে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলেই আপনি পাবেন ফ্ললেস মেকআপ লুক সারাদিন ধরে। আসুন জেনে নেওয়া যাক।

১. ফাউন্ডেশন

প্রাইমারের কথা তো আমরা আগেই জেনেছি। প্রাইমার লাগানোর পর স্কিন যখন বেস মেকআপ করার জন্য তৈরি তখন সবার প্রথমে ফাউন্ডেশন লাগাতে হবে। ভালো ফল পেতে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটু ময়েশ্চারাইজার মিশিয়ে বিন্দু বিন্দু করে পুরো মুখে ও গলায় লাগান। এরপর ব্লেন্ডিং স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করে ধীরে ধীরে ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। নিজের স্কিন টোন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন কিনুন। আপনার স্কিনের কমপ্লেকশনের সাথে ম্যাচ করে ফাউন্ডেশনের শেড বেছে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লিকুইড বেসড ফাউন্ডেশন কিনুন।

২. কনসিলার

চোখের চারপাশে ডার্ক সার্কেল ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ত্বকে যেসব দাগ ছোপ থাকে সেগুলো কনসিলার ব্যবহারে ঢেকে যায়। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পর কনসিলার ব্যবহার করুন। ব্রাশ বা আঙ্গুলের সাহায্য নিয়ে কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। কনসিলারের ক্ষেত্রেও মাথায় রাখুন স্কিন টোনের সাথে ম্যাচ করে কনসিলার কিনবেন। যদি ডার্ক সার্কেল খুব বেশি হয় তাহলে স্কিনের থেকে এক বা দুই শেড উজ্জ্বল কনসিলার কিনবেন। আর যদি ডার্ক সার্কেল কম হয়, তাহলে স্কিনের সাথে ম্যাচ করে এমন কনসিলার কিনুন। লাইটওয়েট কনসিলার কিনুন যা হাই কভারেজ দেয়। এতে মেকআপ অনেকক্ষণ টেকসই হয়। আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখবেন যে ফাউন্ডেশন আর কনসিলারের শেড যাতে ম্যাচ করে।

৩. সেটিং পাউডার

উপরের দুটো স্টেপ হয়ে গেলে একটা ভেজা স্পঞ্জের সাহায্যে ট্রান্সলুসেশন পাউডার পুরো মুখে ও গলায় লাগান। এরপর পাউডার ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিয়ে সেই মেকআপ সেট করে নিন। এতে তৈলাক্ত ত্বক তেলহীন দেখায় আর মেকআপও অনেকক্ষণ টিকে থাকে।

৪. সেটিং স্প্রে

একদম শেষ ধাপ হল মেকআপ সেটিং স্প্রে দিয়ে পুরো মেকআপ সেট করা। খুব ভালো করে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করে, কনসিলার ও ট্রান্সলেশন পাউডার দিয়ে বেসিক মেকআপ করে বাকি আই মেকআপ আর লিপ মেকআপ শেষ করে সব শেষে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করবেন। খেয়াল রাখবেন খুব বেশি সেটিং স্প্রে যাতে ব্যবহার করা না হয়। অল্প পরিমাণ সেটিং স্প্রেই মেকআপকে অনেকক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারে। মেকআপ গলে যাতে না যায় তাই জন্য এই সেটিং স্প্রে ব্যবহার করা হয়। এটি তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন ধাপ। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অবশ্যই অয়েল ফ্রি সেটিং স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। সেটিং স্প্রে মুখ থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখেই ব্যবহার করবেন।

৫. মেকআপের বাকি অংশ

এখন আপনার বেসিক মেকআপ হয়ে গেছে। এরপর আস্তে আস্তে আই মেকআপ করে নিতে হবে। আপনি চাইলে গালে ব্লাশ ও হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। এরপর পছন্দমত লিপস্টিক ব্যবহার করে লিপ মেকআপ শেষ করে নিন। স্মোকি আই মেকআপ হলে বা আই মেকআপ ডার্ক হলে লিপস্টিকের রং হালকা ব্যবহার করুন। চোখে হালকা মেকআপ হলে ডিপ শেডের লিপস্টিক লাগান। আর চাইলে শুধু কাজল আর লিপস্টিক লাগিয়ে একদম মিনিমাল মেকআপ করুন।

এই নিয়ম গুলো পালন করলেই আপনার মেকআপ হবে নিখুঁত। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আরও কিছু মেকআপ টিপস দেওয়া হল।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অন্যান্য মেকআপ টিপস্

এখন আপনার একটি ধারণা হয়ে গেছে যে তৈলাক্ত ত্বকে কী করে মেকআপ করতে হয়। উপরিউক্ত পদ্ধতিতে মেকআপ করে শুধু দারুণ লুকই পাবেন না, আপনার মেকআপ অনেকক্ষণ স্থায়ীও হবে। নীচে কিছু টিপস্ দেওয়া হল যা তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ করার জন্য খুব উপকারী হবে।

  • অয়েল ফ্রি কসমেটিক্স

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সর্বদা ওয়াটার বেসড বা অয়েল ফ্রি কসমেটিক্স কিনুন। (6)যে কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট অবশ্যই করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য গ্রিন টি সমৃদ্ধ কসমেটিক্স কিনতে পারেন।(7)

  • ব্লটিং পেপারের ব্যবহার

যদি আপনার মেকআপ করার সময় মনে হয় স্কিন থেকে খুব অয়েল বেরোচ্ছে, তাহলে ব্লটিং পেপারের সাহায্যে মেকআপ সেট করে নিতে থাকুন। ব্লটিং পেপার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়। (8)ব্লটিং পেপার বাজারে খুব সহজলভ্য জিনিস। সবসময় নিজের কাছে ব্লটিং পেপার রাখুন, যখনই ত্বক তেলতেলে হচ্ছে মনে হবে ব্লটিং পেপার দিয়ে মুছে নেবেন।

  • ম্যাট কমপ্যাক্ট ব্যবহার

মেকআপ করার সময় যদি কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করেন, তাহলে কমপ্যাক্ট কেনার সময় অবশ্যই ম্যাট কমপ্যাক্ট কিনবেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযুক্ত কসমেটিক্স কেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তৈলাক্ত ত্বকে ম্যাট ফিনিশড্ মেকআপ প্রোডাক্টই ব্যবহার করা উচিৎ।

  • স্কিন এক্সফোলিয়েট করা

সপ্তাহে একদিন থেকে দুদিন অবশ্যই ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তারা লেবু, শসা, পেঁপে, মুসুর ডাল দিয়ে ঘরোয়া স্ক্রাবার তৈরি করে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করুন। (9)স্ক্রাবিং করলে ত্বকের ওপর জমা মৃত কোষ দূর হয়, এর সাথে রোমকূপও পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আরও উজ্জ্বল ও হেলদি।

  • প্রচুর পরিমাণে জল পান

তৈলাক্ত ত্বক হলেও ময়েশ্চারাইজার লাগানো যেমন বাদ দেওয়া যাবে না,  সেরকম জল খেতেও ভুলে গেলে চলবে না। ময়েশ্চারাইজিং করার পাশাপাশি ত্বককে হাইড্রেটও করতে হবে, তার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।

  • অল্প পরিমাণে পাউডার ব্যবহার

পাউডার ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কিন্তু অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করলে এর প্রভাব ভালো নয়। তাই তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ করার সময় খুব অল্প পাউডার ব্যবহার করুন।

  • ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধোয়া

ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে ঈষদুষ্ণ জল ও মাইল্ড ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করুন। জলের তাপমাত্রার দিকে নজর রাখুন। তাপমাত্রা বেশি হলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • ওষুধ

তৈলাক্ত ত্বকে বহু রকমের সমস্যা দেখা যায়। যদি ত্বকের সমস্যা বাড়াবাড়ি রকমের হয়, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প কিছু হয় না। ডার্মাটোলজিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম লাগান, ওষুধ খান বা ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ হয়ে ত্বকের সমস্যাগুলো দূর হয়। (10)

বিভিন্ন ধরনের ত্বকের বিভিন্ন রকমের সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো একটু বেশিই হয়ে থাকে – ব্রণ, অ্যাকনে, দাগ ছোপ সহ কত রকমের সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর সাথে লড়াই করে তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ করা কোনো টাস্কের চেয়ে কিছু কম নয়। তাই বিভিন্ন দিকে নজর রেখে তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ কীভাবে করতে হয় সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল। আশা করি এই আর্টিকেল আপনাদের খুব ভালো লাগবে এবং পরবর্তী সময়ে মেকআপ করার সময় সাহায্যও করবে।

প্রায়শঃ জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন

১. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফাউন্ডেশন লাগানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কী?

তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন লাগানোর বিস্তারিত উপায় জেনে নিন।

  • স্কিন টোন অনুযায়ী তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযুক্ত ফাউন্ডেশন বেছে নিন।
  • হাতের ওপর কয়েক ফোঁটা ফাউন্ডেশন নিন।
  • এরপর আঙ্গুল দিয়ে বিন্দু বিন্দু করে পুরো মুখে সেই ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন।
  • এবার ব্রাশ দিয়ে বা বিউটি ব্লেন্ডার অর্থাৎ মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে আস্তে আস্তে পুরো মুখে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রাইমার কী?

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট বা অয়েল ফ্রি প্রাইমার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। আজকাল বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন রকমের প্রাইমার পাওয়া যায়। আপনি আপনার প্রয়োজন মত কোনো ভালো ব্র্যান্ডের অয়েল ফ্রি প্রাইমার কিনুন। এই প্রাইমার আপনি অনলাইনেও পেয়ে যাবেন।

৩. তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল সরিয়ে ত্বককে ম্যাট করবেন কীভাবে?

ক্লিনজিং, টোনিং এবং অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজারের সাহায্যে আপনি খুব সহজেই ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল দূর করতে পারেন। ক্লিনজিং ও টোনিং ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তারপর ময়েশ্চারাইজার ত্বককে কোমল করে। এছাড়া ত্বকের অতিরিক্ত তেল তুলতে ব্লটিং পেপার ব্যবহার করতে পারেন।

Sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
The following two tabs change content below.