উকুনের সমস্যা ও তার ঘরোয়া সমাধান | Home Remedies for Lice in Bengali

by

আপনি কি উকুনের জ্বালায় অতিষ্ঠ? অথচ চুল পড়া, চুল পাকা বা খুশকি – এই জাতীয় সমস্যা নিয়ে আমরা যত খোলাখুলি আলোচনা করি, উকুন নিয়ে ঠিক ততটাই সংকোচ বোধ করি। উকুনের সমস্যাকে লজ্জায় লুকিয়ে যায়। যদিও এতে লজ্জার কিছু নেই কারণ আর পাঁচটা চুলের সমস্যার  মত এটিও একটি সাধারণ সমস্যা যেটা যে কারোর হতে পারে। উকুন শুধু চুলের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকারক। অতএব উকুন নিয়ে আর কোনো লজ্জা বা ভয় নয়, আমরা বিস্তারিত জেনে নেব উকুনের কারণ এবং উকুন তাড়ানোর ঘরোয়া টোটকা।

উকুন যাদের মাথায় আছে শুধুমাত্র তাদের নয়, তার আশেপাশের লোকজনের মাথায় খুব সহজেই সবার অগোচরে প্রবেশ করে এবং ক্ষতি করে। এরা চুলের গোড়ায় থেকে রক্ত চুষে নেয়। এরা সংখ্যায় খুব দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। উকুন থাকলে ভীষণ মাথা চুলকোয়, মাঝে মাঝে মাথা ব্যথাও হয় এবং ত্বকের নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি করে। উকুনের বিজ্ঞানসম্মত নাম পেডিকুলাস হিউম্যানাস ক্যাপাইটিস। ভীষণই ছোট আকারের বাদামি রঙের এই জীব আপনার চুলকে নিজের বাসা বানিয়ে ফেলে এবং চুলের প্রচন্ড ক্ষতি করে।  চুলের একদম নিচের দিকে ডিম পাড়ে আর এই ডিম চুলের সাথে আটকে থাকে। উকুনের হাত থেকে বাঁচাতে অনেক রকমের ঘরোয়া সমাধান আছে, যেগুলো সম্পর্কে নিচে বলা হয়েছে

উকুন হওয়ার কারণ

উকুন হওয়ার কারণগুলো নিয়ে এবার আলোচনা করব। চুলের গোড়া ভেজা থাকলে, চুল ময়লা থাকলে উকুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছোট থেকে বড় সবাই এই উকুনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর উকুন এমন একটি জীব, যা বাড়িতে একবার প্রবেশ করলে সবার মাথায় ছড়িয়ে যাওয়া একদম অবধারিত। নীচের কারণগুলোর জন্য আপনার চুলে উকুন হতে পারে (১)

১. যদি কোনো ব্যক্তির চুলে উকুন থাকে আর আপনি তার সংস্পর্শে আসেন তাহলে উকুন হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

২. উকুনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, বিছানা, বা জামা কাপড় ব্যবহার করলে উকুন হতে পারে। মূলত উকুন এইভাবেই হয়ে থাকে।

৩. উকুনের সমস্যায় জর্জরিত ব্যক্তির চিরুনি বা টুপি পর্যন্ত ব্যবহার করলে আপনার মাথায় উকুন চলে আসতে পারে।

উকুন হওয়ার লক্ষণ

আপনার চুলে উকুন আছে কি নেই ? কয়েকটি লক্ষণের সাহায্যে সহজেই বুঝতে পারবেন (২)

১. উকুন থাকলে আপনি নিজেই অনুভব করতে পারবেন যে কোনো জিনিস মাথার মধ্যে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে।

২.  বারবার মাথা চুলকোলে বুঝতে হবে এটা আপনার মাথায় উকুন থাকার লক্ষণ।

৩. অন্ধকারে উকুন অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। রাত্রিবেলায় এদের উপদ্রব বাড়ে এবং যার ফলে মাথা খুব চুলকোয়।

৪. মাথা, গলা বা ঘাড়ে ছোট ছোট উকুন দেখা যেতে পারে।

৫. প্রত্যেক চুলের নিচের দিকে সাদা সাদা খুব ছোট আকারের ডিম দেখা যাবে।

৬. মাথার মধ্যে ত্বকের ইনফেকশনের সমস্যা কিন্তু উকুন হওয়ার লক্ষণ। অতিরিক্ত চুলকানোর জন্য মাথায় ঘা হয়ে যায়। এই ঘা ত্বকে পাওয়া যায় এমন ব্যাকটেরিয়ার জন্য হয়ে থাকে।

ঘরোয়া উপায়ে উকুনের সমস্যার প্রতিকার

১. টি ট্রি অয়েলের ব্যবহার

কী কী প্রয়োজন?

১. কয়েক ফোঁটা টি ট্রি এসেনসিয়াল অয়েল

২. তোয়ালে

৩. চিরুনি

কী করতে হবে?

১. ঘুমোতে যাওয়ার আগে টি-ট্রি  অয়েল স্ক্যাল্পে লাগান।

২. এরপর বালিশের উপরে একটি তোয়ালা রেখে ঘুমিয়ে পড়ুন।

৩. সকালে উঠে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে সমস্ত মৃত উকুন আর ডিম মাথা থেকে বের করে দিন।

কত দিন অন্তর করতে হবে?

তিন থেকে সাত দিন প্রতি রাতে এই টি ট্রি অয়েল লাগান।

কেন এটা এত কার্যকরী?

টি-ট্রি অয়েল উকুনের সংক্রমণ নাশ করতে খুবই কার্যকরী। যখনই দেখবেন আপনার বাচ্চার স্কুলে উকুনের সংক্রমন হচ্ছে, আপনি এই টোটকা কাজে লাগাতে পারেন। টি-ট্রি অয়েল উকুন এবং এর ডিম মারায় বেশ কার্যকরী। ২০১২ তে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে এই এসেনসিয়াল অয়েল ব্যবহারের ফলে ১০০ শতাংশ উকুনই মারা গেছে (৩)

২. বেকিং সোডার প্রয়োগ

কী কী লাগবে?

১. একভাগ বেকিং সোডা

২. তিনভাগ কন্ডিশনার

৩. উকুনের ডিম ছাড়ানোর চিরুনি

৪. পেপার টাওয়েল

কী করতে হবে?

একভাগ বেকিং সোডা আর তিনভাগ কন্ডিশনার মিশিয়ে পুরো চুলে আর স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগান। এরপর চুল ভাগ ভাগ করে নিয়ে ওই চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। প্রতিবার আঁচড়ানোর পর পেপার টাওয়েল দিয়ে চিরুনিটা মুছে নিন। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে দেখবেন বড় থেকে ছোট উকুন, উকুনের ডিম সব চুল থেকে বের হয়ে গেছে।  ভালো ফল পেতে এই পদ্ধতিটি বেশ কয়েকবার করুন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

উকুনের জন্য স্ক্যাল্পে যে চুলকানি হয়, বেকিং সোডা সেটার উপশম করে। (৪)বেকিং সোডা কন্ডিশনারের সাথে মিশিয়ে লাগালে উকুনের শ্বাস প্রশ্বাস রোধ করতে সমর্থ হয়, ফলে উকুন মারা যায়।

৩. পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. পেট্রোলিয়াম জেলি

২. শাওয়ার ক্যাপ

৩. উকুনের ডিম ছাড়ানোর জন্য চিরুনি

৪. বেবি অয়েল

কী করতে হবে?

বেশ ভালো পরিমাণ মত পেট্রোলিয়াম জেলি স্ক্যাল্পে ঘষে ঘষে লাগান। সারারাত শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন।  চিরুনিতে বেবি অয়েল লাগিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। দেখবেন উকুন গুলো মাথা থেকে বেরিয়ে আসবে, সাথে ডিমও। সম্পূর্ণ পেট্রোলিয়াম জেলি ধুয়ে ফেলে দিতে পরদিন ভালো করে শ্যাম্পু করুন। পর পর বেশ কয়েক রাতে এই পদ্ধতি পালন করলে উকুনের সমস্যা থেকে নিস্তার পাবেন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

পেট্রোলিয়াম জেলি উকুনের জন্য একটা দম বন্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। যার ফলে উকুন সহজেই মরে যায়। অন্যান্য উপায়গুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায় এই উপায়টি বেশি কার্যকরী।

৪. ভিনিগার ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. ১ ভাগ ভিনিগার ও ১ ভাগ জল

২. তোয়ালে

৩. উকুনের ডিম ছাড়ানোর চিরুনি

কী করতে হবে?

১ ভাগ ভিনিগার ও ১ ভাগ জল মিশিয়ে নিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে নিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর সেই বিশেষ চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে উকুন ও ডিম বের করুন। তারপর চুল ধুয়ে নিন। আপনি সাধারণ ভিনিগারের পরিবর্তে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারও ব্যবহার করতে পারেন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

ভিনিগারের অ্যাসিটিক অ্যাসিড চুল আর ডিমের মধ্যে দৃঢ় বন্ধনকে আলগা করে তাই চুল থেকে ডিম বের করতে সুবিধে হয়। চুল থেকে উকুন বের করতেও এটি একই ভাবে কার্যকরী।*

৫. লবণ

কী কী লাগবে?

১. ১/৪ কাপ লবণ

২. ১/৪ কাপ ভিনিগার

৩. স্প্রে বোতল

৪. শাওয়ার ক্যাপ

কী করতে হবে?

লবণ ও ভিনিগার একসাথে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে এই মিশ্রণটি নিয়ে চুলে ভালো করে স্প্রে করে নিন।  চোখে বা মুখে যেন না পড়ে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা থেকে রাখুন এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। তারপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।  সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করুন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

লবণ হল একটু প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ যা বড় – ছোট সব উকুনকেই মেরে ফেলে। আর ভিনিগার চুলের থেকে ডিমকে আলগা করে। সঠিকভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে উকুনের সাথে সাথে ডিমও চুল থেকে বেরিয়ে আসবে।

৬. অলিভ অয়েলের ব্যবহার

কী কী লাগবে?

অলিভ অয়েল আর শাওয়ার ক্যাপ

কী করতে হবে?

পুরো চুলে আর স্ক্যাল্পে ভালো করে অলিভ অয়েল মেখে শাওয়ার ক্যাপ পরে শুয়ে পড়ুন। সারারাত এইভাবেই রেখে দিন। পরদিন সকালে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে শ্যাম্পু করে নিন। তারপর অবশ্যই চিরুনি করে উকুন আর তার ডিম গুলো বের করে নেবেন।  এই টোটকা পরপর দুইদিন প্রয়োগ করুন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

অলিভ অয়েল বড় উকুনের দম বন্ধ হয়ে আসে। যার ফলে ওই সব উকুন মরে যায়। তাছাড়া এই তেল চিরুনি করার সময় ডিমগুলো সহজেই বের হতে সাহায্য করে (৫)

৭. অ্যালকোহলের ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. বেঞ্জাইল অ্যালকোহল দ্রবণ

২. উকুনের জন্য চিরুনি

কী কী করতে হবে?

দ্রবণটি মাথার চামড়ায় লাগানো। এক্ষেত্রে কানের পেছনে এবং ঘাড়ে লাগাতে ভুললে চলবেনা। এইভাবে ১০ মিনিট পর পরিস্কার জলে ধুয়ে চিরুনির মাধ্যমে মৃত উকুন আর ডিম গুলি বের করে দিন। বাকি উকুন যেগুলি ডিম ফুটে বের হয়েছে সেগুলিকে মারার জন্য  এক সপ্তাহ পর আবার এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করতে হবে। 

কেন এটা এত কার্যকরী?

বেঞ্জাইল অ্যালকোহল একটি উকুননাশক। এটি তাদের শ্বাসরোধ করে। এটি FDA অনুমোদিত এবং ৬ মাসের উপরে শিশুর জন্যও ক্ষতিকারক নয় (৬)

৮. নিম তেলের ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. নিম তেল

২. শ্যাম্পু

৩. উকুনের ডিম ছাড়ানোর জন্য চিরুনি

কী করতে হবে?

শ্যাম্পুর মধ্যে কয়েক ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান, চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর অবশ্যই চিরুনি করতে হবে। রোজ এটা করতে থাকলে উকুন নির্মূল হয়ে যাবে।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

উকুনের সমস্যায় নিম তেল খুবই ভালো কাজ করে। এটি হাওয়া বাতাস রোধ করে উকুনের জন্য দম বন্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। দেখা গেছে উকুনের মৃত্যুর হার অনেক বেশি এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে  (৭)

৯. নারকেল তেলের ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. নারকেল তেল

২. শাওয়ার ক্যাপ

৩. শ্যাম্পু

৪. কন্ডিশনার

৫. উকুনের ডিম ছাড়ানোর চিরুনি

কী করতে হবে?

নারকেল তেল অল্প গরম করে নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করুন বেশ কিছুক্ষণ ধরে। এরপর শাওয়ার ক্যাপ পরে মাথা পুরো ঢেকে রাখুন। দুই ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর আস্তে আস্তে চিরুনি করে ডিম সহ উকুন বের করে আনুন। শ্যাম্পু করে নিন, সঙ্গে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে আবার নারকেল তেল গরম করে লাগান। আরেকটা নতুন শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে নিন এবং সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে আবার চুল আঁচড়ে নিয়ে মরে যাওয়া উকুন বের করে ফেলুন। এরপর চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে এক থেকে দুদিন করুন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

অন্যান্য তেলের মত এই তেলও উকুনের শ্বাস প্রশ্বাস রোধ করে উকুনকে মেরে ফেলে। ডিমকে চুল থেকে আলগা করে দেয়। এই ঘরোয়া টোটকাগুলোর জন্য সঠিক ভাবে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো খুব জরুরী।

১০. বেবি অয়েল ব্যবহার

কী কী প্রয়োজন?

১. বেবি অয়েল

২. শাওয়ার ক্যাপ

৩. উকুনের ডিম ছাড়ানোর জন্য চিরুনি

৪. জল

৫. লন্ড্রি ডিটারজেন্ট বা ডিশ ওয়াশিং লিকুইড

কী করতে হবে?

পরিমাণ মত বেবি অয়েল মাথায় ম্যাসাজ করুন। এরপর যথারীতি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে নিন। সারারাত রেখে দিয়ে সকালে উঠে ওই চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে মরে যাওয়া উকুন আর ডিম গুলো বের করে নিন। লন্ড্রি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন। এই সময় সতর্ক থাকুন। এই উপায় বার বার প্রয়োগ করলে তাড়াতাড়ি আপনার চুল উকুন মুক্ত হয়ে যাবে।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

বেবি অয়েল উকুনের শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। (৮)এটা চুলকে এতোটাই  তৈলাক্ত করে দেয় যার ফলে উকুনের ডিম গুলো আর চুলে আটকে থাকতে পারে না। তবে তীব্র লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করে নিম তেল যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

১১. ভেজিটেবল অয়েল

কী কী লাগবে?

১. ভেজিটেবল অয়েল

২. শাওয়ার ক্যাপ

৩. উকুন মারার চিরুনি

৪. শ্যাম্পু

কী করতে হবে?

ভেজিটেবল অয়েল মাথায় ম্যাসাজ করুন। মাথা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন সারারাত। পরদিন সকালে উঠে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। যতদিন পর্যন্ত উকুন না যায় এটা করতে থাকুন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

যদি আপনার কাছে কোনো রকম এসেন্সিয়াল অয়েল না থাকে, ভেজিটেবল অয়েল নিশ্চয় থাকবে। এই তেলও একই ভাবে উকুনের সমস্যায় কাজ করে।

১২. ইউক্যালিপটাস অয়েল ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. ১৫-২০ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল

২. দুই আউন্স অলিভ অয়েল

৩. শাওয়ার ক্যাপ

৪. উকুন মারার চিরুনি

কী করতে হবে?

ইউক্যালিপটাস অয়েলকে অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগান, স্ক্যাল্পে লাগান। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে উঠে চিরুনি করে মরে যাওয়া উকুন গুলো বের করে নিন। তারপর চুল ধুয়ে ফেলুন। যখনই প্রয়োজন হবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

ইউক্যালিপটাস অয়েল উকুন মারতে খুবই কার্যকরী। যেসব উকুন কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টেও প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় সেইসব ক্ষেত্রেও কাজ করে।

১৩. মেয়োনিজের ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. মেয়োনিজ

২. শাওয়ার ক্যাপ

কী করতে হবে?

মাথায় আস্তে আস্তে ঘষে ঘষে মেয়োনিজ লাগান। তারপর সারারাত মাথায় শাওয়ার ক্যাপ পরে থাকুন। পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিন।

কতদিন অন্তর করতে হবে?

কিছুদিন অন্তর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করুন।

কীভাবে এটা কার্যকরী হবে?

মেয়োনিজ শুধু খেতেই সুস্বাদু এমন নয়, চুলের ব্যাপারে এটি বেশ উপকারী। উকুনের সমস্যায় চুলে মেয়োনিজ ব্যবহার করা হয়। মেয়োনিজ ব্যবহারে কম সময়েই অনেক বেশি উকুন মেরে ফেলা যায়। এমনকি উকুনের ডিম থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন ১২ ঘণ্টার বেশি যাতে মেয়োনিজ আপনার মাথায় লাগানো থাকে।

১৪. লিস্টারিন ব্যবহার

কী কী লাগবে?

১. লিস্টারিন

২. শাওয়ার ক্যাপ

৩. উকুনের ডিম ছাড়ানোর চিরুনি

কী করতে হবে?

চুলে এবং স্ক্যাল্পে ভালো করে লিস্টারিন লাগান। এরপর শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে সম্পূর্ণ মাথা ঢেকে রাখুন। সতর্ক থাকুন যাতে কোনোভাবে লিস্টারিন আপনার চোখে মুখে না পড়ে। এই অবস্থায় দুই ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর ভালো মত শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন। এই টোটকা খুব কার্যকরী হয় যখন আপনি উকুনের ডিম ছাড়ানোর চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে উকুন ও ডিমগুলো বের করে নেবেন।

কতদিন করতে হবে?

এক সপ্তাহ পর পর এটা করতে থাকুন উকুন চলে যাবে।

কীভাবে এটি কার্যকরী?

লিস্টারিনের মধ্যে থাকে ইউক্যালিপটাস আর থাইমল যা উকুন মারতে খুব কার্যকরী।

বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা

যে মুহূর্তে আপনি জানতে পারেন যে আপনার মাথায় উকুন আছে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে আপনার উচিৎ সেই উকুনের চিকিৎসা করানো। উকুনের উপদ্রব বেশি হওয়ার আগে বা একজনের থেকে অন্যজনের মাথায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই সাবধান হতে হবে। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ উকুনের সমস্যায় নাজেহাল হলে, তার জন্য রইল কিছু কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের হদিশ যা চুলকে সহজেই গ্যারান্টি সহকারে উকুনমুক্ত করে।

১. ডাইমেটিকন লোশন

ডাইমেটিকন লোশন একটি সিলিকন বেসড কীটনাশক যা সাধারণত প্রসাধনী সামগ্রী বা মেকআপ কিটে থাকে। সপ্তাহে দুদিন এই লোশন স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৮ ঘণ্টা রেখে দিয়ে পরদিন শ্যাম্পু করে নিলে উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

২. আইসোপ্রোপাইল মাইরিস্টেট ও সাইক্লোমেথিকন সলিউশন

এটিও ডাইমেটিকন লোশনের মত একটি কীটনাশক। তবে খেয়াল রাখতে হবে এটি মাত্র দশ মিনিট স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখলেই হবে। তারপর অবশ্যই সরু দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিয়ে উকুন বের করে নিতে হবে। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলে দিতে হবে।

৩. ম্যালাথিয়ন লোশন

ম্যালাথিয়ন লোশন একটু কেমিক্যাল কীটনাশক যা বহুদিন ধরে উকুনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই লোশন স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১২ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ব্যবহারে উকুন অসাড় হয়ে যায় এবং শেষে মারা যায়। সরু দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে এই মরে যাওয়া উকুন গুলো বেরিয়ে আসে। ছয় বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাদের এই ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। এই লোশন দাহ্য তাই সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।এছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে উকুনের সমস্যা হয় না। নিয়মিত স্নান করুন, জামা কাপড় গরম জলে কাচুন। তাহলেই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে পারবেন ।

উকুন থেকে বাঁচতে টিপস

উকুনের সমস্যা একবার শুরু হলে একেবারেই পিছু ছাড়তে চায় না। বলা হয়, প্রতিরোধ করা চিকিৎসার থেকে বেশি ভালো। এই বহুল প্রচলিত কথাটি মাথায় রেখে আসুন দেখে নিই উকুন থেকে বাঁচতে আমরা কী কী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে পারি।

১. যখন আপনি জানেন কারোর মাথায় উকুন আছে তার সাথে হেয়ার ব্রাশ, চিরুনি, টুপি, চাদর, গামছা, তোয়ালে বা কোনো জামা কাপড় শেয়ার করবেন না।

২. যদি আপনার বা আপনার বাচ্চার মাথায় উকুন থাকে, তাহলে আলাদা শোবেন। এতে উকুন ছড়িয়ে পড়া অনেকটাই থামাতে পারবেন।

৩. চুল ধোয়ার জন্য ডিশ ওয়াশিং ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন, এতে উকুনের ডিমগুলো মরে যায় যার ফলে আরও উকুনের জন্ম প্রতিরোধ করা যায়।

উকুন হল চুলের সবচেয়ে বিরক্তিকর সমস্যা। ‘উকুন’ কথাটা শুনলেই মনে পড়ে ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় মায়েরা বারণ করে দিতেন যে যাদের মাথায় উকুন আছে তাদের পাশে বসতে। কারণ কী উকুন গোপনে ছড়িয়ে পড়ে এবং চুলের প্রচন্ড ক্ষতি করে। তাই উকুন থেকে রক্ষা পেতে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ তো বটেই, তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, উকুন হয়ে গেলে উকুনের জন্য ট্রিটমেন্টগুলো আপনাকে রোজ করে যেতে হবে। উকুন মরে গেছে দেখে বন্ধ করে দিলে হবে না। দুই সপ্তাহ পর আবার একই ট্রিটমেন্ট করতে বলা হয় যাতে উকুন সম্পূর্ণ রূপে নির্মূল হয়ে যায়। এর সাথে সাথে চিরুনি, তোয়ালে, গামছা, বালিশের কভার, বিছানার চাদর আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের সব কিছুই গরম জলে ধুয়ে নিতে হবে। এতে উকুন যদি সেইসব জিনিসের মধ্যেও  থাকে তাহলে তা চলে যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন:

১. হেয়ার ডাই করলে কি উকুন মরে যায়?

হ্যাঁ, হেয়ার ডাই করলে উকুন মরে যায়। হেয়ার ডাইয়ের মধ্যে যে বিষাক্ত কেমিক্যাল পদার্থ থাকে (যেমন – অ্যামোনিয়া), তার প্রভাবে ছোট, বড় সব আকারের উকুনই মরে যায়। কিন্তু চুল ডাই করলে উকুনের ডিমগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। কারণ, ওই কেমিক্যাল ডিমকোষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না।

২. চুলে শ্যাম্পু করলে কি উকুন মরে যায়?

যদি আপনি সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তাহলে রোজ শ্যাম্পু করলেও কবিনো উপকার পাবেন না। উকুন তাড়াতে গেলে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে স্পেশাল শ্যাম্পু যেগুলো উকুনের ট্রিটমেন্টের জন্যই বানানো হয়। সেইসব শ্যাম্পুতে টি ট্রি অয়েল, ইউক্যালিপটাস অয়েল বা নিম তেল থাকে।

৩. উকুনের হাত থেকে মুক্তি পেতে কি সব চুল কেটে ফেলা উচিৎ?

যে পরিবেশে উকুন জন্মাচ্ছে, বড় হচ্ছে – তাকে অর্থাৎ চুলকে সম্পূর্ণ কেটে ফেলে দিলে উকুন থেকে মুক্তি অবশ্যই পাবেন। কিন্তু এটা একটা চরম সিদ্ধান্ত আর এটার খুব একটা দরকার নেই কারণ অনেক ঘরোয়া টোটকা আছে, আরও অন্যান্য ওষুধ বাজারেও পাওয়া যায়, যা আপনাকে মাথা থেকে উকুন তাড়াতে সাহায্য করবে।

10 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.

Was this article helpful?
scorecardresearch