ভিটামিন-এ -এর ঘাটতির কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া টোটকা | Vitamin A Deficiency in Bengali

by

সুন্দর স্বাস্থ্য এবং আনন্দে ভরপুর জীবন পেতে আমাদের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা হল শরীরে সঠিক মাত্রায় সমস্ত পুষ্টিগুণ থাকা। আর তার জন্য জরুরি পরিমাণ মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। কারণ, খাবারের সাহায্যেই আমাদের শরীরে অধিকাংশ পুষ্টিগুণ প্রবেশ করে থাকে। কিন্তু এগুলির মধ্যে কোনও পুষ্টিগুণের মাত্রা যদি আমাদের শরীরে বেড়ে বা কমে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। এরকমই একটি পুষ্টিকর পরিপোষক হল ভিটামিন-এ।

স্টাইলক্রেজের এই প্রবন্ধে আমরা আপনাদের জানাব ভিটামিন- এ’র উৎস, ভিটামিন- এ’র উপকারিতা এবং ভিটামিন- এ’র ঘাটতি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য।

তবে পাঠকদের খেয়াল রাখতে হবে যে, ভিটামিন-এ নিয়ে লেখা এই প্রবন্ধে যে যে সমাধানের কথা জানানো হবে, তা আপনাদের সমস্যা থেকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু তা কখনওই আপনার রোগের চিকিৎসা নয়। তাই যে কোনও রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য আপনি অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

তাহলে চলুন শুরুতেই জেনে নিই, ভিটামিন-এ-এর কী কী উপকারিতা রয়েছে। তারপর আমরা আলোচনা করব ভিটামিন-এ সম্পর্কিত অন্যান্য জরুরি তথ্য ও বিষয়।

ভিটামিন-এ-এর উপকারিতাঃ

প্রবন্ধের এই অংশে আমরা আলোচনা করব ভিটামিন-এ-এর বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে।

১. ক্যান্সার থেকে বাঁচাতেঃ

এনসিবিআই (National Center for Biotechnology Information)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বায়োমেড রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল-এর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, শরীরের বিভিন্ন অংশে টিউমার ছড়ানোর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে ভিটামিন-এ। পাশাপাশি এর মধ্যে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতাও থাকে। () তাই বলা যেতেই পারে যে, ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার খেলে আপনি ক্যান্সারের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

২. বয়স বাড়ার কারণে ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের থেকে রক্ষাঃ

ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (Macular Degeneration)- এর অর্থ হল ম্যাকুলা (Macula) নষ্ট হয়ে যাওয়া। ম্যাকুলা কী, এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, চোখের রেটিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ম্যাকুলা। আমাদের দেখতে পাওয়ার কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এই ম্যাকুলা।() চোখের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সম্পর্কিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ভিটামিন-এ চোখের কার্যক্ষমতাকে উন্নত করার পাশাপাশি ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।() তাই বলা যেতে পারে যে, ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার খেলে আপনি এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

৩. মিজেলস-এর সমস্যা থেক বাঁচতেঃ

মিজেলস (Measles) হল ভাইরাস ঘটিত এক ধরনের সংক্রমণ, যা মূলত আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস তন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ভাইরাসের কারণে রোগীর শরীরে জ্বর, শুকনো কাশি এবং সর্দির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই ভাইরাস ঘটিত রোগ আরও গুরুতর হলে রোগীর শরীরে ঘা বা হাজার মতো দাগও দেখা যায়।এই বিষয়ের পারদর্শী বা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি দেখা দিলে এই রোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই বেড়ে যায়। সেই কারণে সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা বেশি করে ভিটামিন-এ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।() তাই এটি বলা মোটেই ভুল হবে না যে, ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার খেলে রোগী এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাবে। এমনকি এর পাশাপাশি এই রোগ হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যাবে।

৪. চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়ঃ

চোখের দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্যও ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিষয়ে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির বায়ো-কেমেস্ট্রি বিভাগের একটি গবেষণা পত্রে জানা গিয়েছে যে, ভিটামিন-এ চোখের কোষের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই কোষ আমাদের দেখার কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।() এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যেতেই পারে যে, ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোরও আহার বটে।

৫. হাড়ের বিকাশে সহায়কঃ

ইউনাইটেড স্টেটসের উইসকনসিন- মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের তরফে করা একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ভিটামিন-এ অপ্রত্যক্ষ ভাবে অর্থাৎ প্রোভিটামিন-এ ক্যারোটিনয়েড (ভিটামিন-এ -এর সক্রিয় রূপ)- এর রূপে আমাদের হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে থাকে। পাশাপাশি ওই গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে, অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে তা আবার আমাদের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। তবে এই ভিটামিন-এ আমাদের শরীরে কত পরিমাণে গেলে ও কতক্ষণ অবধি তা আমাদের শরীরে সুরক্ষিত থাকে এবং হাড়কে মজবুত করতে এটি কীভাবে কাজ করে, এই সব সম্পর্কে জানতে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন। ()

৬. প্রজননে সাহায্য করেঃ

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিকের উন্নতিতে সাহায্যের পাশাপাশি ভিটামিন-এ প্রজনন কার্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বলা হয় যে, একদিকে এই ভিটামিন-এ যেমন পুরুষের বীর্য অর্থাৎ স্পার্ম তৈরী করায় সাহায্য করে তেমনই মহিলাদের গর্ভ ধারণেও সাহায্য করে এই ভিটামিন-এ। এমনকি গর্ভধারণে সহায়ক ভ্রুণের বিকাশেও সাহায্য করে ভিটামিন-এ। () তাই বলা যেতে পারে যে, স্ত্রী এবং পুরুষ দুজনের ক্ষেত্রেই প্রজননে এটি অত্যন্ত সাহায্য করে।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভিটামিন-এ ভীষণ কার্যকরী। আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়িয়ে এটি আমাদের শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা দেয়। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি সেই ক্ষমতা বজায় রাখতেও সাহয্য করে। () তাই আমরা যদি বলি যে ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাহলে আমরা খুব একটা ভুল বিবেচিত হব না।

এতক্ষণ আমরা জানলাম ভিটামিন-এ-এর বিভিন্ন উপকারিতা সমন্ধে। এবার আসুন জেনে নিই ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির সম্পর্কে।

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি কী?

একজন মানুষের প্রতি ডেসিলিটার রক্তে সাধারণতঃ ১৫ থেকে ৬০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। () যখন সেই মাত্রা ১৫ মাইক্রোগ্রামের চেয়েও কম হয়ে যায়, তখন তাকে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি বলা যেতে পারে। ভিটামিন-এ- এর কমতি হলে আপনার শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেবে। সেই সম্পর্কেই আজ আমরা আপনাদের জানাব।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী কারণে আপনার শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির কারণ

অন্যান্য পুষ্টিগুণের মতোই ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার কম পরিমাণ খেলে আমাদের শরীরে এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এছাড়া শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণেও আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর অভাব দেখা দিতে পারে। চলুন সেই সমস্যাগুলি কী কী দেখে নেওয়া যাক।

  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস (ফুসফুস সংক্রান্ত এক গভীর সমস্যা)
  • প্যানক্রিয়াস অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় ফুলে যাওয়া কিংবা সেই অঙ্গের সঠিক ভাবে কাজ না করা
  • সিলিয়েক ডিজিজ ( অন্ত্র সম্পর্কিত একটি সমস্যা)

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির কারণগুলি জানানোর পর এবার আমরা জানাব ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির লক্ষণগুলি সম্পর্কে।

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির লক্ষণ

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির লক্ষণগুলি নিয়ে নীচে আলোচনা করা হল।

  • শিশুদের ক্ষেত্রে হাড় এবং দাঁত সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা দেওয়া দেওয়া
  • চোখ ফুলে কিংবা শুকিয়ে যাওয়া
  • রাতকানা হয়ে যাওয়া ( রাতে দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা)
  • বারবার সংক্রামিত হওয়া
  • ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি, ঘা বা হাজা হওয়া
  • শরীরের বিকাশে কমতি
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া

এতক্ষণ আমরা জানলাম ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির লক্ষণগুলি সম্পর্কে। এবার আমরা আপনাদের জানাব ভিটামিন-এ-এর উৎসগুলি সম্পর্কে।

ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার

চলুন জেনে নিই কোন কোন খাবার থেকে আমরা ভিটামিন-এ-এর পুষ্টি পেতে পারি।

১. বিফ লিভার

ভিটামিন-এ-এর উপশমে অনেকেই বিফ লিভার খেয়ে থাকেন। বিফ লিভারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ থাকে। তাই এটি খেলে আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

মাত্রাঃ প্রত্যেক ১০০ গ্রাম বিফ লিভারে প্রায় ২৬০৮৮ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। (১০)

২. স্যালমন মাছ

যাঁরা যাঁরা মাছ খেতে পছন্দ করেন, তাঁরা ভিটামিন-এ-এর একটি দুর্দান্ত উৎসথিসাবে স্যালমন মাছ খেতে পারেন। কারণ, এতে শুধু ভিটামিন-এ-ইই নয়, বরং অন্যান্য আরও অনেক পুষ্টিগুণ ভরপুর থাকে। তাই যাঁদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি দেখা দেয়, তাঁরাও নিজেদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এই মাছ খেতে পারেন।

মাত্রাঃ প্রত্যেক ১০০ গ্রাম স্যালমন মাছে প্রায় ৪০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৩. ড্রাই বা শুকনো অ্যাপ্রিকট

কারও শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি দেখা দিলে তিনি ড্রাই বা শুকনো অ্যাপ্রিকট খেতে পারেন। এবং যাঁরা নিরামিশাষী তাঁদের জন্যও এই শুকনো অ্যাপ্রিকট একটি খুবই ভালো বিকল্প।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম শুকনো অ্যাপ্রিকটে মোটামোটি ২৫০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৪. সবুজ পাতাযুক্ত সবজি

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি পূরণ করার জন্য সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজিও খাওয়া যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে এই সবুজ শাক-সবজির সুপ বানিয়ে খাওয়া খুব উপকারী।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজির সুপে প্রায় ১৯৬ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৫. ফর্টিফায়েড ওটমিল

ফর্টিফায়েড ওটমিলকে নিজের খাদ্য তালিকায় শামিল করলে আপনি নিজের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি হওয়াকে কমাতে পারবেন। তাই আপনি এই খাবার রোজ সকালের জল-খাবারে খেতে পারেন। সন্ধেবেলার টিফিনেও আপনি এটি খেতে পারেন।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম ফর্টিফায়েড ওটমিলে প্রায় ২৫৭৪ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৬. খরমুজ বা ফুটি

গরমের দিনগুলিতে ফুটি বা খরমুজ পিপাসা যেমন মেটায়, তেমনই এটি আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি পূরণেও সাহায্য করে। তাই শরীরে ভিটামিন-এ-এর অভাব দেখা দিলে আপনি এই খরমুজ বা ফুটি খেতেই পারেন।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম খরমুজ বা ফুটিতে প্রায় ৭৭২ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৭. দুগ্ধজাত উপাদান

আমরা সকলেই জানি দুধে প্রায় সমস্ত রকমের পুষ্টিই ভরপুর থাকে। তাই দুধের উপকারিতার তালিকারও কোনও শেষ নেই। তাই দুধ খেলে অন্যান্য পুষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন-এ’ও আমাদের  শরীরে প্রবেশ করে। তাই শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি পূরণের জন্য দুধ কিংবা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

মাত্রাঃ ১০০ মিলি দুধে প্রায় ২০৮ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৮. গাজর

আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি পূরণের জন্য গাজরও অত্যন্ত উপকারী। শাক-সবজি গোত্রের অন্তর্গত এই সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। তাই গাজর যে কেবলমাত্র আমাদের শরীরের নিয়মিত প্রয়োজনীয় ভিটামিন-এ-এর মাত্রা পূরণ করে তাইই নয়, বরং আমাদের শরীরের ভিটামিন-এ-এর মাত্রা কম হলে তার উন্নতি ঘটাতেও সাহায্য করে।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম গাজরে প্রায় ৭০৫১ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

৯. পেঁপে

পেঁপের মিষ্টি স্বাদ এবং রসালো ভাবের জন্য এই ফল অনেকেরই ভীষণ প্রিয়। তবে এর গুণাগুণও কিন্তু মোটেই কম নয়। এই ফলেও ভরপুর পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। তাই শরীরে ভিটামিন-এ-এর মাত্রা সঠিক রাখতে এই ফল খাওয়াও খুব লাভজনক।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম পেঁপেতে প্রায় ১০০০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

১০. মিষ্টি আলু

মিষ্টি স্বাদের জন্য জনপ্রিয় এই সবজিটিতে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন-এ থাকে। তাই শরীরে এই ভিটামিনের কমতি দেখা দিলে মিষ্টি আলু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম মিষ্টি আলুতে প্রায় ১৪১৭৩ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

১১. আম

যাঁদের শরীরে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতি দেখা দেয়, তাঁদের জন্য আম ভীষণ উপকারী। কারণ, আমাদের শরীরে দৈনিক যে পরিমাণ ভিটামিন প্রয়োজন হয়, তা পূরণ করার জন্য আম একাই একশো। অন্যান্য পুষ্টিগুণের পাশাপাশি আমে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-এ থাকে।

মাত্রাঃ ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৭১৪ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

বি.দ্রঃ একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার প্রতিদিন ৭০০ মাইক্রোগ্রাম অর্থাৎ প্রায় ২৩৩১ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) এবং একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের মোটামোটি ৯০০ মাইক্রোগ্রাম অর্থাত প্রায় ২৯৯৯ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ-এর প্রয়োজন হয়।

এতক্ষণ আপনারা জানলেন ভিটামিন-এ-এর উৎস সম্পর্কে। এবার চলুন জেনে নিই ভিটামিন-এ-এর অভাবে আমাদের শরীরে কোন কোন রোগ হতে পারে।

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতিতে কোন কোন রোগ হতে পারে?

ভিটামিন-এ-এর অভাবে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। এবার চলুন, আমরা দেখে নিই কী কী রোগ এই কারণে হতে পারে-

  • রাতকানা (কম আলোয় কিংবা রাত হলে দেখতে না পাওয়ার সমস্যা)
  • জিরোপথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) অর্থাৎ চোখের জল শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা
  • হাইপারকেরাটোসিস (Hyperkeratosis) অর্থাৎ ত্বক শুষ্ক এবং অনুজ্জ্বল হয়ে যাওয়া।

ভিটামিন-এ-এর অভাবে হওয়া রোগগুলির সম্পর্কে জানার পর এবার আমরা জানব কীভাবে ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ভিটামিন-এ-এর ঘাটতির হাত থেকে বাঁচার উপায়

কীভাবে আপনি আপনার শরীরে ভিটামিন-এ-এর অভাব ঘটার হাত থেকে বাঁচতে পারেন, সেই বিষয়ে নীচে আলোচনা করা হল।

  • যথাযথ পরিমাণ এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার খাওয়াই একমাত্র আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
  • আপনার শরীরে যাতে ভিটামিন-এ-এর মাত্রা সঠিকভাবে বজায় থাকে, তাই এই ভিটামিন যুক্ত খাবার নিয়মিত সুষম পরিমাণে খান।
  • যথাযথ পরিমাণে ভিটামিন-এ-এর উৎস যুক্ত খাবারগুলি খান। নইলে তা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকারকও হতে পারে।
  •  যদি আপনি ভিটামিন-এ যুক্ত সাপ্লিমেন্ট খেতে চান, তাহলে তা খাওয়ার আগে নির্দিষ্ট পরিমাপ জানার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভিটামিন-এ-এর ভূমিকা কী এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তো আপনি এতক্ষণে ভালো করেই জেনে গিয়েছেন। এছাড়া এর উপকারিতা ও এই ভিটামিনের অভাবে হওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথাও আপনার আর অজানা নেই। পাশাপাশি ভিটামিন-এ-এর অভাব হলে আপনার শরীরে সমস্যা দেখা দেওয়ার আগে কিছু লক্ষণও দেখা দেবে। সেই বিষয়েও আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করছি। তাই সেরকম কোনও লক্ষণ আপনার শরীরে দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আর আপনি ছাড়া যদি আপনার কোনও আত্মীয়, বন্ধু কিংবা পরিচিত কেউ এই সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আপনি তাঁদের অবশ্যই আমাদের এই প্রবন্ধে আলোচিত উপশম গুলির বিষয়ে জানান। আশা করা যায়, এই টোটকাগুলি ব্যবহার করে তাঁর সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। তবে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নঃ

এবার আমরা দেখে নেব এই বিষয়ে যে প্রশ্নগুলি প্রায়শই করা হয়ে থাকে।

উচ্চ ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার কোনগুলি?

আমরা আগেই এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। তবু জানিয়ে রাখি উচ্চ ভিটামিন-এ যুক্ত খাবারগুলি হল দুগ্ধজাত যেকোনও খাবার, মেটে, মাছ ফর্টিফায়েড শস্য, গাজর, ব্রকোলি, ফুটি বা খরমুজ, স্কোয়াশ ইত্যাদি।

কোন প্রকৃতিতে ভিটামিন-এ খাওয়া সবচেয়ে ভালো?

ভিটামিন-এ সাধারণত তিন রকম প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। সেগুলি হল- রেটিনল, রেটিনাল এবং রেটিনয়িক অ্যাসিড। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেটিনয়েড বা রেটিনল প্রকৃতিতে ভিটামিন-এ খাওয়া।

ভিটামিন-এ-এর তিন রকম প্রকৃতি কী কী?

ভিটামিন-এ সাধারণত তিন রকম প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। সেগুলি হল- রেটিনল, রেটিনাল এবং রেটিনয়িক অ্যাসিড।

ভিটামিন-এ কি প্রতিদিন খাওয়া ভালো?

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার প্রতিদিন ৭০০ মাইক্রোগ্রাম অর্থাৎ প্রায় ২৩৩১ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) এবং একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের মোটামোটি ৯০০ মাইক্রোগ্রাম অর্থাৎ প্রায় ২৯৯৯ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন-এ-এর প্রয়োজন হয়। এর বেশি ভিটামিন-এ খেলে তা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

আমার কি ভিটামিন সাপ্লিমেন্টস প্রয়োজন আছে?

যদি আপনি সুস্থ-সবল মানুষ হন, তাহলে আপনার ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই। যাঁরা সব খাবার খেতে পারেন না, ডাক্তাররা মূলত তাঁদেরই এই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেন।

10 sources

Stylecraze has strict sourcing guidelines and relies on peer-reviewed studies, academic research institutions, and medical associations. We avoid using tertiary references. You can learn more about how we ensure our content is accurate and current by reading our editorial policy.
Was this article helpful?

LATEST ARTICLES

scorecardresearch